বড় চ্যালেঞ্জ জননিরাপত্তা

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২৮ এএম

জনগণের জানমালের নিরাপত্তাই যে বিএনপি সরকারের প্রথম চ্যালেঞ্জ, সেটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঠিকই চিহ্নিত করেছেন। বোঝার এই প্রজ্ঞাই তারেক রহমানের সরকারকে সামনের দিকে নিয়ে যাবে বলে মনে হয়। জননিরাপত্তাকে প্রাধান্যের তালিকায় রেখেছেন, মানে হচ্ছে এই সূত্র ধরে আস্থা ও বিশ্বাস। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভেতর দিয়ে পুলিশি অবকাঠামো ভেঙে পড়ে। ফলে জনমনে ভয় ও শঙ্কা বাড়তে থাকে। সমাজে সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতা বেড়ে গেলেও অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। তবে নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীসহ সব আইনি কর্র্তৃপক্ষের উপস্থিতির কারণে পুলিশকেও ট্রমা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে। এই ইতিবাচক পরিস্থিতি এখনো চলতে থাকলেও,  প্রকৃত পুলিশি কাঠামোর পুরো সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত জনগণকে নিরাপত্তা ও সেবা দেওয়া যাবে না। আবার পুরনো ধারায় বদলি তদবির চেষ্টার পর, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ফলে পুলিশি বাহিনীর ভেতরে থাকা তদবির ধারা থতমত খেয়েছে। বদলির ক্ষেত্রে যোগ্যতাই বিবেচিত হবে এটা এখন নিশ্চিত প্রায়। কারণ তদবির করলেই চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হবে। এই  কঠোর নীতি আইনি ভিত্তি পেলে, ধারণা করা যায় ওই সংগঠনকে তদবিরমুক্ত করা যাবে। আর সেবাধর্মও ফিরিয়ে আনা সহজ হবে। এই ধারার প্রতি সমর্থন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন ‘পুলিশকে জনগণের বন্ধু বানাতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত বাহিনী গড়তে হবে।’

১৭ কোটি মানুষের জন্য কমপক্ষে ৫ লাখ পুলিশ দরকার। সেই সঙ্গে সামাজিক পুলিশিং ব্যবস্থা চালু করা হলে গ্রামগঞ্জের আইনি পরিবেশ অনেকটাই সন্ত্রাসমুক্ত করা যাবে। সংখ্যা ও ট্রেনিং দিয়ে ট্রাফিক পুলিশের সেবা নিশ্চিত করা যেতে পারে। আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত অর্থনীতির প্রাগ্রসরতা। এটা একে অন্যের পরিপূরক। আইনের শাসন কায়েম ও তা অব্যাহত থাকলে, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়বে। জননিরাপত্তাই মূলত আমাদের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য। দুর্নীতিমুক্ত পুলিশ বাহিনী গড়তে হলে তাদের বহুমাত্রিক ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থার বিকল্প নেই। অস্ত্রের ট্রেনিং ছাড়াও লাগবে সাংস্কৃতিক পরিচর্যা, মানসিক শিক্ষা, আচার-আচরণে, বডি ল্যাঙ্গুয়েজে মানবিকতা থাকতে হবে। আরও যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে, তার মধ্যে খোয়া যাওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার অন্যতম। অনেক সন্ত্রাসীকে গণঅভ্যুত্থানের পর জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তারা সমাজে গুপ্তঘাতক হিসেবে লিপ্ত। এদের অতিদ্রুত আইনের আশ্রয়ে আনতে হবে।

আইনের প্রয়োগ, দ্রুত বিচার করে আইনি শাসনের দুয়ার কল্যাণ ও নিরাপদ করতে হবে।। অপরাধী বিচারের মাধ্যমে দ্রুত ফল লাভ করলে পরিস্থিতি ভালো হতে বাধ্য। নিম্ন আদালতের বিচারব্যবস্থায় তদবির, ঘুষ এবং নানা অব্যবস্থা বিরাজমান। জুলাই অভ্যুত্থানের পর কেন, কোন যুক্তিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী বা জেলে থাকা সন্ত্রাসীদের জামিন দিয়েছে আদালত? এর পেছনের কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেছেন, ‘নিরাপত্তা ছাড়া উন্নয়ন টেকসই হয় না। আবার অর্থনৈতিক স্বস্তি ছাড়া সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠা হয় না। নতুন সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত এই দুই খাতে সমন্বিত ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ।’ তারেক রহমানের সরকার যে ওই সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে, তা উপলব্ধি করা যায়। এই ক্ষেত্রে বিজয় অর্জন করতে হবে সরকারকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে এই পরিকল্পিত চ্যালেঞ্জের। ট্রাফিক পুলিশের কর্মদক্ষতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন আছে, তেমনি প্রশ্ন তাদের সংখ্যা নিয়েও। সড়কে যাতায়াত মসৃণ ও নির্বিঘ্ন করার দায়িত্ব কেবল তাদের ওপরই বর্তায় না, গাড়ির চালকদের দায়িত্বও আছে। আইন অনুযায়ী, গাড়ি থামানো ও পার্কিং হলে যানজট হবে না। হর্ন না বাজিয়েও গাড়ি চালানো যেতে পারে, যদি নিয়ম মেনে তারা চলেন। এ ব্যাপারে সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত