গৃহকর্মীকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, চিকিৎসক গ্রেপ্তার

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম

শিশু গৃহকর্মীকে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা ও নির্যাতনের অভিযোগে জাহিদুল ইসলাম (৩৪) নামে এক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরেক নির্যাতনকারী জাহিদুলের স্ত্রী কৌশলে পালিয়ে গেছে।

রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আশুলিয়া থানার স্মৃতিসৌধ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শহিদুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। এরআগে শনিবার রাতে সাভারের আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকা আশিক ভিলা থেকে ওই চিকিৎসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মীর নাম সামিয়া আক্তার। সে পাবনা জেলার আমিন থানার সিন্দুরীয়া গ্রামের রজব আলীর মেয়ে। সে সাভারের আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ডা. জাহিদুল ইসলামের বাড়িতে ১১ মাস ধরে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। 

অপরদিকে গ্রেপ্তারকৃত চিকিৎসকের নাম জাহিদুল ইসলাম (৩৪)। সে সাভারের গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক হাসপাতালের চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ভুক্তভোগী শিশু গৃহকর্মী  সামিয়া আক্তার বলেন, ‘আমি ১১ মাস ধরে ওই চিকিৎসকের বাসায় কাজ করছি। প্রথম এক মাস আমাকে মারধর করেনি। কিন্তু পরের ১০ মাস আমাকে মারধর এবং গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়েছে। গরম খুন্তির ছ্যাঁকায় আমার মুখ, হাত-পা ও পিঠে অনেক দাগ হয়ে রক্ত জমে আছে বলে জানান তিনি।

পুলিশ জানায়, সামিয়া নামে দশ বছরের এক শিশু ওই চিকিৎসকের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে শিশুটিকে নির্যাতন করায় ওই চিকিৎসকের বাসা থেকে পালিয়ে আসে। পরে শিশুটি পথচারীদের নির্যাতনের কথা জানায়। পরে পথচারীরা জরুরি সেবা ৯৯৯ নাম্বার কল দিয়ে শিশু নির্যাতনের ঘটনাটি অবহিত করেন। এরপর আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্যাতনের সত্যতা পায় এবং চিকিৎসকের বাসায় অভিযান চালায়।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া গেছে। পরে অভিযান চালিয়ে নির্যাতনকারী চিকিৎসক জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তার স্ত্রী পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত