ঈদের পরেই বেতন পাবেন জাতীয় দলের ক্রীড়াবিদরা

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩৫ এএম

আগের দিন ক্রীড়া সাংবাদিকদের কাছ থেকে ক্রীড়াঙ্গনের হালচাল জেনেছেন। সোমবার নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বসেছিলেন ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর কর্তাদের সঙ্গে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে তিন ঘণ্টার সভায় ফেডারেশনগুলোর বর্তমান অবস্থা, চাওয়া-পাওয়া সম্পর্কে জেনেছেন তিনি। তবে এক বৈঠকেই সবকিছু জানা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই ফেডারেশনগুলোকে নিজেদের গত এক বছরের আমলনামা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা লিখিত আকারে জানাতে সাত দিন সময় বেঁধে দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করা ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসার ইচ্ছের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন আমিনুল। ফেডারেশনগুলোর কাছে জাতীয় দলের তালিকাও চেয়েছেন তিনি। যাতে আসছে ঈদের পরেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে হাঁটা সম্ভব হয়।

সংবাদ মাধ্যমের কাছে সভার গুরুত্বপূর্ণ আলোচিত বিষয়গুলো তুলে ধরেন আমিনুল। তিনি বলেন, ‘ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত ইতিবাচক একটি বৈঠক হয়েছে। আগামী দিনের বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন আমরা কীভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নিতে চাই তা নিয়ে আলোচনা হয়। একটি ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে ফেডারেশনগুলোকে স্বাবলম্বী করা, উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা এবং ফেডারেশনকে কীভাবে একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে প্রতিটি খেলাকেই গুরুত্ব দিতে চাই।’ আমিনুল যোগ করেন, ‘গত এক বছরের দেশের ক্রীড়াঙ্গনের মূল্যায়ন করে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছি ফেডারেশন কর্মকর্তাদের। দেশের ক্রীড়াঙ্গন কোথায় সফল ছিল, কোথায় ব্যর্থ হয়েছে এবং কী কী সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন ছিল, কী কী সুযোগ সুবিধার অভাব ছিল গত এক বছরে নিজ নিজ মূল্যায়ন আগামী সাত দিনের মধ্যে পেশ করতে বলেছি।’

ফুটবল ও ক্রিকেট বাদে অন্যান্য খেলার ক্রীড়াবিদদের ক্যারিয়ার জুড়েই চরম অর্থ সংকটের মধ্যে থাকতে হয়। ফলে চাইলেও অনেকেই শুধু খেলাকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন না। আমিনুল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার কথা বলে এসেছেন। সেই ইচ্ছে পূরণে ফেডারেশনগুলোর পাশে থাকার কথা বলেছেন তিনি, ‘আমরা খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই এবং যারা দেশের প্রতিনিধিত্ব করে, দেশের জন্য যারা সম্মান বয়ে আনতে নিজেদের উজাড় করে দেয়, সেই খেলোয়াড়দের একটি বেতন কাঠামোর ভেতরে আনতে চাই। আমি সব ফেডারেশনকে বলেছি, জাতীয় দলের তালিকা আমাদের কাছে প্রদান করতে। সেই তালিকা আমরা যাচাই-বাছাই করে কোন ক্যাটাগরিতে কীভাবে কাদেরকে একটি বেতন কাঠামোর ভেতরে নিয়ে আসতে পারি, সেই কর্মপরিকল্পনাগুলো আমরা দ্রুতই করতে চাই। রোজার ভেতরেই এ কাজটা শেষ করতে চাই, যাতে ঈদের পরপরই বাস্তবায়নের পথে হাঁটতে পারি।’

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংস্কারের নামে অভিজ্ঞতাশূন্য করে ফেলা হয়েছিল ফেডারেশনগুলোকে। তাই সভায় অনেকেই দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার কথা মন্ত্রীকে বলেছেন। আমিনুল অবশ্য তাড়াহুড়ো করতে চাইছেন না। তিনি চান তৃণমূল থেকে কাজ শুরু করতে, ‘নির্বাচন নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মতামত, আলোচনা, সমালোচনা শুনেছি। আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, নির্বাচন প্রক্রিয়াটিকে একটি সুন্দর স্বচ্ছভাবে করব। একেবারে উপজেলা থেকে আমরা শুরু করতে চাই। উপজেলা থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা জেলা, বিভাগ পর্যায়ে সেরে এরপর আমরা ফেডারেশনগুলোর নির্বাচন করব।’

অভিভাবক হিসেবে ৫১টি ফেডারেশনেই নজর দিতে হবে প্রতিমন্ত্রীকে। তবে আমিনুল একটি অগ্রাধিকার তালিকা করে এগিয়ে যেতে চাইছেন। শুরুতে তিনি এমন খেলার দিকে বেশি দৃষ্টি চাইছেন, যেসব খেলা দিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে আরও সুনাম কুড়িয়ে আনা সম্ভব, ‘আমরা অগ্রাধিকার দেব সেইসব খেলাকে যারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বেশি অর্জন করতে পারে।’ আর অনগ্রসর ও অপ্রচলিত খেলাগুলোকে সক্রিয় করতে স্কুল পর্যায়ে খেলাধুলা চর্চা বাড়ানোর কথা বলেছেন আমিনুল। পাশাপাশি ক্রীড়া সরঞ্জামাদিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত বিদেশ থেকে রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিশ্চিতে কাজ করার কথা বলেছেন আমিনুল।

সভায় ক্রিকেট, ফুটবল থেকে শুরু করে প্রায় সব খেলার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষে সভায় উপস্থিত থাকা সহসভাপতি ফারুক আহমেদ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর পরিকল্পনায় আস্থা রাখার কথা বলেছেন, ‘উনি অত্যন্ত চমৎকারভাবে সভা শুরু করেছেন। তার ভিশনটা আমাদের বলেছেন। ফেডারেশনগুলোর সমস্যা, সুবিধা-অসুবিধাগুলো উনি মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। নোট নিয়েছেন। আমি আশা করি, এগুলো নিয়ে কাজ হবে। আমি আরও বলেছি আমাদের এ ধরনের মিটিং পাঁচটা-পাঁচটা ফেডারেশন নিয়ে যদি করা হয়, তাহলে আমরা আরও বিস্তারিত আলোচনা করতে পারব। যেটা আমাদের সবার জন্য ভালো হবে।’

আমিনুল ক্রীড়াঙ্গনের মানুষ। তারপরও নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে সমস্যার গভীরে যেতে চাইছেন তিনি। এ ধারাবাহিকতায় আজ তার পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সভা করার কথা রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত