সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী ‘র‍্যাপার মেয়র’

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২২ এএম

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর থেকেই হিমালয়ের কন্যাখ্যাত নেপালে আমূল পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। যার পরিক্রমায় আগামী ৫ মার্চ দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর নির্বাচনের আগে নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী এক সময়ের র‌্যাপার ও কাঠমান্ডুর বর্তমান মেয়র বালেন্দ্র শাহযিনি দেশ জুড়ে ‘বালেন শাহ’ নামেই বেশি পরিচিত। ওলি পদত্যাগ করার পর বালেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার লাখো অনুসারীর উদ্দেশে লিখেছিলেন ‘প্রিয় জেনারেশন জেড, তোমাদের হত্যাকারীর পদত্যাগ এসেছে। এখন তোমাদের প্রজন্মকেই দেশ পরিচালনা করতে হবে; প্রস্তুত হও।’

মেয়র হিসেবে দুই বছরের অভিজ্ঞতা পুঁজি করে বালেন এখন দেশের শীর্ষ পদের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার। যদিও নেপালে কোনো নির্ভরযোগ্য জনমত জরিপ নেই, তবে চারজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পছন্দের তালিকায় সবার চেয়ে এগিয়ে রাখছে। কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ বিপিন অধিকারী বলেন, বালেন শাহ এতটাই জনপ্রিয় যে এখন কাঠমান্ডুগামী বাসগুলোতে স্টিকার লাগানো থাকে বালেনের শহরে যাত্রা। নেপালের রাজনীতি দীর্ঘকাল ধরে প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি দলের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এর মধ্যে ওলি’র কমিউনিস্ট পার্টি চীন ঘেঁষা এবং নেপালি কংগ্রেস ভারত ঘেঁষা হিসেবে পরিচিত। বালেন শাহর দল ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ (আরএসপি) একটি মধ্যপন্থি নতুন শক্তি। তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বড় দুই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ‘ভারসাম্যপূর্ণ বৈদেশিক সম্পর্ক’ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। মেয়র হিসেবে কাঠমান্ডুর অবকাঠামো উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে বালেন শাহ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বেশ কিছু সংস্থা তার সমালোচনাও করেছে। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ ব্যবহার করে তিনি হকার এবং ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করেছেন।

২০২২ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচনে দাঁড়িয়ে ‘পরিবর্তনের সময়’ সেøাগান দিয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার বালেন শাহ ভারতে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স করেছেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি তুপাক শাকুর এবং ফিফটি সেন্টের মতো শিল্পীদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে র‌্যাপ গান গাইতেন। তার গানগুলো নেপালের শাসকগোষ্ঠীর সমালোচনা এবং দেশের ২০ শতাংশ দরিদ্র মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত বালেন শাহ যদি ক্ষমতায় বসতে পারেন, তাহলে সেটা হবে এমন এক মানুষের নাটকীয় উত্থান যিনি প্রতিষ্ঠানবিরোধী র‌্যাপ গানের মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টি কেড়ে পরে সেই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে রাজনীতির উচ্চাসনে পৌঁছেছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত