পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে গত কয়েক দিন ধরে পরিচালিত বড় ধরনের এক সামরিক অভিযানে অন্তত ৩৪ জন ‘ভারত সমর্থিত’ সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই সাঁড়াশি অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ভারত সমর্থিত প্রক্সি গোষ্ঠী ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ এবং ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নির্মূল করা। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি খাইবার পাখতুনখোয়ার চারটি পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’-এর ২৬ সদস্যকে হত্যা করা হয়। অন্যদিকে, বেলুচিস্তানের সাম্বাজা এলাকায় পৃথক এক অভিযানে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর ৮ সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
আইএসপিআর-এর বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত দিয়ে একদল খাওয়ারিজ সদস্য অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল। এসময় নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত নিখুঁত ও পেশাদারিত্বের সাথে তাদের লক্ষ্যবস্তু করে এবং ফিতনা আল-খাওয়ারিজের এক সদস্যকে হত্যা করে। উল্লেখ্য, নিহত ওই সন্ত্রাসী একজন আফগান নাগরিক হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।
সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, লাক্কি মারওয়াত জেলায় একটি বিশেষ অভিযানে তিন খাওয়ারিজ সদস্যকে হত্যা করা হয়। একই সময়ে বান্নু জেলার নর্মি খেল এলাকায় পৃথক দুটি অভিযানে আরও ১০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া উত্তর ওয়াজিরিস্তানের মির আলী জেলায় চালানো অভিযানে ১২ জন খাওয়ারিজ সদস্যকে সফলভাবে হত্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি বেলুচিস্তানের জুব জেলার সাম্বাজায় তীব্র বন্দুকযুদ্ধের পর ৮ সন্ত্রাসীকে হত্যা করে নিরাপত্তা বাহিনী।
নিহতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। আইএসপিআর জানিয়েছে, এই সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানে বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী জাতীয় সীমানা রক্ষায় ও বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ পরিকল্পনার আওতায় এই অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকায় সন্ত্রাসী হামলা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। এরই প্রেক্ষাপটে গত শনিবারও পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তের সাতটি সন্ত্রাসী আস্তানায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসলামাবাদ, যাতে অন্তত ৮০ জন জঙ্গি নিহত হয়। গত বছরের অক্টোবর মাসেও দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল।
সূত্র: জিও নিউজ
ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ কি নতি স্বীকার করাবে ইরানকে?