রমজানে মহিষের দইয়ের কদর

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১১ এএম

রমজান এলেই ইফতারের টেবিলে বাড়ে সাদা (টক) দইয়ের কদর। বাহারি পদের ভিড়ে রোজাদারদের কাছে এই দই অন্যতম পছন্দের খাবার। টক দইয়ের সঙ্গে এবার পাল্লা দিয়ে বিক্রি হচ্ছে মিষ্টি দইও। সারা বছরই চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলের মহিষের দইয়ের চাহিদা রয়েছে জেলা জুড়ে। রোজার দিনগুলোতে এর চাহিদা বেড়ে যায় প্রায় তিনগুণ। প্রতিদিন সকাল থেকে ইফতারের আগ পর্যন্ত বেচাকেনা চলছে জমজমাট।

উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়ন জুঁইদ-ীর লামার বাজার ও খুরুস্কুল হাজীর স্টেশন এলাকা থেকে দই তৈরি করে চট্টগ্রাম নগরসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। অন্যান্য এলাকার মহিষের দুধের দই টক হলেও এখানকার মহিষের দুধের দই মিষ্টি। এখানকার গাভীর দুধের সাদা দইও স্বাদে অতুলনীয়।

এক বাটি ঠা-া দই পানির তৃষ্ণা মেটায়। পরবর্তী খাবারের জন্য প্রস্তুত করে পাকস্থলিকে। শতবর্ষের ঐতিহ্য আর খাঁটি দুধের মিশেলে তৈরি এই দই সাহরি ও ইফতার বাজারে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, সারা দিন রোজা পালনের পর সাদা দই দিয়ে তৈরি মাঠা বা ঘোল পানে শরীর শীতল হয়। চাহিদার তুলনায় অনেক সময় সরবরাহ কম পড়ে।

জানা গেছে, উপজেলার জুঁইদ-ী লামার বাজারের মহিউদ্দিন ও নঈমউদ্দিন এবং খুরুস্কুল হাজীর স্টেশনের মো. রাসেল ও মো. লোকমান চারজনই পাইকারি দই ব্যবসায়ী। তাদের তৈরি করা দই আনোয়ারা-কর্ণফুলী উপজেলার গ-ি পেরিয়ে চট্টগ্রাম নগরেও সুনাম অর্জন করেছে। প্রতিদিনই ছোট-বড় মিলিয়ে ৫ থেকে ৬ হাজার বাটি দই বিভিন্ন স্থানের দোকান-রেস্টুরেন্টে সরবরাহ করে থাকেন এই ব্যবসায়ীরা। মহিষের দুধের ছোট এক কাপ দই ২০ টাকা ও গরুর দুধের ছোট এক কাপ দই ১২ টাকায় বিক্রি হয়। মহিষের দুধের এক কেজি মিষ্টি দই ২৮০ ও টক দই ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। গরুর দুধের এক কেজি মিষ্টি দই ১৬০ ও টক দই ১২০ টাকায় বিক্রি হয়।  

দই ব্যবসায়ীরা জানান, এলাকার বিভিন্ন খামারির কাছ থেকে গরু ও মহিষের দুধ সংগ্রহ করা হয়। এসব খাঁটি দুধ দিয়ে দই তৈরি হয়। দইয়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রেখে জমিয়ে পরে বাজারজাত করা হয়। দই ব্যবসায়ী নঈমউদ্দিন জানান, রমজানে প্রতিদিন তার গড়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার দই বিক্রি হচ্ছে। এই হিসাবে মাসে প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার দই বিক্রি হবে, যা অন্য সময়ের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি।

খুচরা দই বিক্রেতা ইউনুছ সওদাগর বলেন, ‘শীত শেষে তাপমাত্রাও বেড়েছে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে রোজা। এতে দইয়ের চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে চা-নাশতার পাশাপাশি দই এনে বিক্রি করছি। চাহিদা থাকায় লাভও হচ্ছে।’

দই কিনতে আসা গিয়াস উদ্দিন পারভেজ বলেন, ‘সারা দিন রোজা রাখার পর ইফতারে দই খেলে রোজার ক্লান্তি দূর হয়। তাছাড়া সাহরির পাতে মিষ্টি দই না থাকলে মায়ের তৃপ্তি মেটে না।’

স্কুলশিক্ষক সালাউদ্দিন রশিদ বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকার দই সাধারণত খাঁটি। এখানে কোনো ধরনের ভেজাল মেশানো হয় না। এখানকার দইয়ের বেশ কদর রয়েছে।’

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘মহিষের দই হজমে সহায়তা করে। প্রতিদিন এ দই খেলে হৃদরোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত