যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে নিজ সহযোগীদের যোগসূত্রতা নিয়ে নানামুখী চাপের মুখে আছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। এর মধ্যেই যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের এক ধাক্কা খেলেন তিনি। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের যে আসনে প্রায় ১০০ বছর ধরে লেবার পার্টির একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, সেখানেই লজ্জাজনক হার দেখতে হয়েছে ক্ষমতাসীন দলটিকে। গত শুক্রবারের নির্বাচনী ফল অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের গোর্টন অ্যান্ড ডেন্টন উপনির্বাচনে এই সংসদীয় আসনে জয় পেয়েছেন বামপন্থি গ্রিন পার্টির প্রার্থী হানা স্পেনসার। দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে নাইজেল ফারাজের অভিবাসনবিরোধী দল ‘রিফর্ম ইউকে’। আর একসময়ের দাপুটে লেবার পার্টি ছিটকে গেছে তৃতীয় স্থানে। লেবার পার্টির জন্য আসনটি অন্যতম ‘নিরাপদ ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত ছিল। নির্বাচনে এমন হার প্রধানমন্ত্রী স্টারমারকে আরও বেশ চাপে ফেলবে।
এই আসনে জয় পাওয়ার জন্য নিজ দলের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামকে তিনি এখানে লড়তে দেননি। এমনকি হারের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজে এই সপ্তাহে সেখানে প্রচারে গিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনে গোর্টন ও ডেনটন আসনে লেবার পার্টি অর্ধেকের বেশি ভোট পেয়েছিল। কিন্তু স্টারমারের অজনপ্রিয়তা, মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, একাধিক কেলেঙ্কারি এবং বারবার নীতি পরিবর্তনের কারণে দলটির জনসমর্থনে বড় ধস নেমেছে। আগের সংসদ সদস্য স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করায় এই উপনির্বাচন হয়। শুক্রবারের এই ভোটে বামপন্থি গ্রিন পার্টি ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছে। নাইজেল ফারাজের রিফর্ম পার্টি ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় এবং লেবার পার্টি ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে।
ভোটের আগে লেবার পার্টির কয়েকজন আইনপ্রণেতা জানিয়েছিলেন, এ আসনে হারলেও স্টারমারের পদ এখনই সরাসরি হুমকির মুখে পড়বে না। তবে আগামী মে মাসের নির্বাচনের পর তিনি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওয়েলস ও স্কটল্যান্ডের পার্লামেন্ট নির্বাচনসহ স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনগুলোয় লেবার পার্টির ফল বেশ খারাপ হতে পারে। তবে গ্রিন পার্টির জন্য এই জয় ঐতিহাসিক। এই প্রথম তারা কোনো সংসদীয় উপনির্বাচনে এবং ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের কোনো আসনে জয় পেল। এর মধ্য দিয়ে ৬৫০ আসনের হাউজ অব কমন্সে (ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ) দলটির আসনসংখ্যা বেড়ে পাঁচে দাঁড়াল। ইতিমধ্যেই স্টারমার তার প্রধানমন্ত্রিত্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় পার করছেন। লেবার পার্টির প্রবীণ নেতা পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় চলতি মাসেই নিজ দলের আইনপ্রণেতাদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের ঘনিষ্ঠতা থাকায় স্টারমারের পদত্যাগও দাবি করা হয়।
বিবিসি-র নির্বাচনী বিশেষজ্ঞ জন কার্টিস এই ফলাফলকে ‘ভূমিকম্প সদৃশ’ বলে অভিহিত করেছেন। গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি বলেছেন, এই ফলাফল প্রমাণ করেছে যে এখন থেকে গ্রিন পার্টির জন্য কোনো আসনই অসম্ভব নয়। অন্যদিকে, রিফর্ম ইউকে’র নেতা নাইজেল ফারাজ এই ফলাফলকে ‘সাম্প্রদায়িক ভোটিংয়ের জয়’ বলে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন; যা গ্রিন পার্টি নাকচ করে দিয়েছে।