শেরপুর(কানাসাখোল)-ভীমগঞ্জ-নারায়ণখোলা-রামভদ্রপুর-পুরানগঞ্জ-ময়মনসিংহ(রহমতপুর) প্রকল্পের কাজ দুই বছরে শেষ করার শর্তে ২০২৩ সালের ২২ আগস্টে শুরু হয়। কিন্ত অধিগ্রহণ সংক্রান্ত আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘ সূত্রিতায় তিন বছরেও কাজের ৪০ ভাগ শেষ হয়নি। অবস্থার প্রেক্ষিতে সময় এক বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করলেও অধিগ্রহণের কাজ আগায়নি। আগামি জুনে সময় বাড়ালে শর্তমতে কাজের মুল্য বাড়াতে হবে। সরকারি অর্থের অপচয় হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারি সরকারি প্রতিষ্ঠান সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে অধিগ্রহণের দীর্ঘ সূত্রতায় কাজ আগানো যাচ্ছে না। উপরন্তু আগামি মাসে কাজ বন্ধ হয়ে যাবে।
জানা যায়, শেরপুর-ময়মনসিংহের দুরুত্ব ৬৯ কিলোমিটার। এই বিকল্প সড়কটি নির্মাণ কাজ শেষ হলে দুই জেলার মধ্যে ২০ কিলোমিটার দুরুত্ব কমে যাবে। শেরপুর-ময়মনসিংহের অনগ্রসর বিশাল চরাঞ্চল দিয়ে বিকল্প ওই সড়কটি করার মেঘা প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহের সাথে লাখ লাখ মানুষের সহজ যোগাযোগ ও অনগ্রসর চরাঞ্চলবাসীর জীবন যাত্রার মান উন্নত করতে ১ হাজার ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ৪৪.৯০৬ কিলোমিটার, প্রস্থ ৩৩.৭৮ ফুট। সড়কে ধরা হয়েছে বড় ৮টি সেতু ও শতাধিক ছোট ও মাঝারি কালভার্ট।
সড়ক ও জনপথ জানায়, এই প্রকল্পের কাজ চারটি প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম প্যাকেজ সদর উপজেলার কানাশাখোলা থেকে শুরু হয়ে নকলা উপজেলার চন্দ্রকোণা পর্যন্ত ১৩.৫০০ কিলোমিটার। দ্বিতীয় প্যাকেজ চন্দকোণা থেকে ময়মনসিংহের শুরু চরবসন্তি (রামভদ্রপুর)পর্যন্ত ১১.১২১ কিলোমিটার। এই দুই প্যাকেজের কাজ তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব শেরপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের। বাকী দুই প্যাকেজ ব্রহ্মপুত্রের উপর ব্রীজ(রহমতপুরের ব্রহ্মপুত্রের উপর ১৪৭১ মিটার ব্রিজ) ও রামভদ্রপুর-পুরানগঞ্জ-ময়মনসিংহ(রহমতপুর) পর্যন্ত ১৯.৬২১কিলোমিটার সড়ক বাস্তবায়ন করছে ময়মনসিংহ জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ। প্রথম প্যাকেজের কিছু কাজ বাস্তবায়ন হলেও, স্থাপনা উচ্ছেন ও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় বাকি কাজ হচ্ছে না। উপরন্ত প্যাকেজ শুরুর অংশ কানাশাখোলা বাজারে জেলা পরিষদের একটি মার্কেট ভাঙ্গার অনুমতি না পাওয়ায় শুরুর অংশেই কাজের ব্যাঘাত ঘটছে। আর দ্বিতীয় প্যাকেজের ১১.১২১ কিলোমিটারের মধ্যে ৫ কাজ শেষ করে ৮মাস যাবৎ বসে আছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বাকী ৬ কিলোমিটার সড়কের ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় কাজ শুরুই করা যাচ্ছে না।
অপরদিকে ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, জেলার নিয়ন্ত্রণাধীন ব্রিজের কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৩০ শতাংশ,আর সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। এখানেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা রয়েছে ও সড়কের কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন দীর্ঘ দিন কাজ করেনি বলে জানিয়েছেন ওই জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত আলী। ওই প্রকৌশলী আরও জানান, গত মাসে ঠিকাদার বাতিল করা হয়েছে। দ্রুত ঠিকাদার নিযোগ ও অধিগ্রহণ জোড়দার করে কাজের গতি আনা হবে। এদিকে কাজের দীর্ঘ সূত্রিতায় স্থানীয় মানুষও বিরক্তি প্রকাশ করছেন। তাদের দাবি এই গুরুত্বপুর্ণ কাজটি করতে এত অবহেলা করা হচ্ছে কেন। সমস্যা দূর করে দ্রুত কাজ শেষ করা হোক।
শেরপুর সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্থাপনা উচ্ছেন ও অধিগ্রহণ না হওয়ায় হাতে কোন কাজ থাকবে না, ফলে প্রকল্পের কাজ আগামি মাসে বন্ধ হয়ে যাবে। সময়ের অপচয়ের সাথে সাথে আগামিতে কাজের মুল্য বাড়বে, সরকারের বেশী অর্থ ব্যয় হবে। গুরুত্ব বিবেচনায় এখনই অধিগ্রহণ সম্পন্ন করলেও আগামি জুনে কাজ শেষ হবে না।শেরপুরের জেলা প্রশাসক তরফতার মাহমুদুর রহমান বলেছেন, লেকবল সংকটে অধিগ্রহণ বিলম্ব হয়েছে। জেলা পরিষদের স্থাপনা ভাঙ্গতে স্থানীয় সরকারে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অধিগ্রহণ ও যাবতীয় সমস্যা কাটিয়ে দ্রুত জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।