বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালি রণক্ষেত্র

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৬, ১০:১৩ এএম

বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ পারস্য উপসাগরের ‘হরমুজ প্রণালি’ বর্তমানে এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামক সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় রবিবার (১ মার্চ) এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর একাধিক হামলা এবং ব্যাপক ‘ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার’ বা ডিজিটাল যুদ্ধের খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে, কৌশলগত এই জলপথে চলাচলকারী কয়েক হাজার জাহাজ চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের এক সতর্কবার্তার পর। ওই বার্তায় পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরসহ গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলোতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়। বিআইএমসিও-এর সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রধান জ্যাকব পি লারসেন জানিয়েছেন, পারস্য উপসাগর বর্তমানে বাণিজ্যিক শিপিংয়ের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থানে পরিণত হয়েছে। ইরানি হামলার ভয়ে অধিকাংশ জাহাজ এখন এই এলাকা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে।

সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার এই অঞ্চলে অন্তত তিনটি বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহর পশ্চিমে একটি জাহাজের কাছে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণ ঘটে। এছাড়া ওমানের মাস্কাটের উত্তরে একটি অয়েল ট্যাংকারে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে তাতে আগুন ধরে যায়। মিনা সাকরের উত্তর-পশ্চিমেও একটি জাহাজে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটিশ মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস এই ঘটনাগুলোকে ‘হামলা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

ভয়াবহ এই পরিস্থিতির মধ্যে যোগ হয়েছে ডিজিটাল যুদ্ধ। মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স সংস্থা ‘উইন্ডওয়ার্ড’ জানিয়েছে, বর্তমানে এই অঞ্চলে ১ হাজারের বেশি জাহাজের জিপিএস এবং অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম সংকেত বিঘ্নিত হচ্ছে। ইরানের বন্দর আব্বাসের কাছে এই বিভ্রাট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সমুদ্রে থাকা জাহাজগুলোর অবস্থান ডিজিটাল ম্যাপে ভুলভাবে কোনো বিমানবন্দর, পারমাণবিক কেন্দ্র কিংবা স্থলভাগের ভেতরে দেখাচ্ছে। এতে করে জাহাজগুলোর দিক নির্ণয় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিপিং কোম্পানি ‘মেয়ার্সক’ ইতোমধ্যে এই অঞ্চল দিয়ে তাদের কিছু পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। বর্তমান উত্তেজনায় অনেক ট্যাংকার তাদের যাত্রা পথ পরিবর্তন করছে অথবা অবস্থান গোপন রাখতে জিপিএস সিগন্যাল বন্ধ করে দিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে নতুন করে হামলা শুরু করতে পারে। বিশেষ করে যেসব জাহাজের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে, সেগুলো ইরানের মূল লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও ইরান এখনো হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করেনি, তবে যেকোনো সময় পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: ফক্স নিউজ

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত