যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহতের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিকভাবে কড়া প্রতিবাদ লিপি পাঠিয়েছে ইরান। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। চিঠিতে তিনি খামেনির হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কাজ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি ‘বিপজ্জনক ও নজিরবিহীন উত্তেজনা’ তৈরি করেছে, যা রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক আদর্শের পরিপন্থী।
ইরানের পক্ষ থেকে এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল আন্তর্জাতিক আইনের প্রতিষ্ঠিত নীতিমালাকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়নি, বরং এটি পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। তেহরান এই ঘটনার জন্য অবিলম্বে সুষ্ঠু ও আন্তর্জাতিক বিচার দাবি করেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তার চিঠিতে আরও সতর্ক করে বলেন, এই ধরণের আচরণ একটি বিপজ্জনক ‘প্যান্ডোরার বক্স’ খুলে দেওয়ার শামিল। এটি রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের সমতা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার মূলে সরাসরি আঘাত হেনেছে। ইরান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সনদে দেওয়া নিজেদের দায়িত্ব পালন করেন।
পরিশেষে, ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে এই নৃশংস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি সরকারকে পুরোপুরি জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বিষয়ে অবিলম্বে কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য জোরালো দাবি জানিয়েছে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের হুঁশিয়ারি