হাসপাতালের আইসিইউ, সিসিইউ, এইচডিইউ, লাইফ সাপোর্ট— শব্দগুলো আমাদের কাছে বেশ পরিচিত হলেও অনেকেরই ধারণা নেই কোন ইউনিটে কখন রোগীকে নেওয়া হয়। চলুন, জেনে নিই এই ইউনিটগুলোর পার্থক্য ও কাজ।
এইচডিইউ : সাধারণ ওয়ার্ড ও আইসিইউ-এর মাঝামাঝি
এর পূর্ণরূপ হলো ‘হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট’। যখন রোগীর অবস্থা সাধারণ ওয়ার্ডে রাখার মতো ভালো নয়, আবার আইসিইউ-তে নেওয়ার মতো খুব বেশি খারাপও নয়, তখন তাকে এইচডিইউ-তে রাখা হয়। এখানে রোগীকে সাধারণ ওয়ার্ডের চেয়ে বেশি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
সিসিইউ : শুধু হৃদরোগীদের জন্য
এর পূর্ণরূপ ‘করোনারি কেয়ার ইউনিট’। যখন কেউ হার্ট অ্যাটাক বা হৃদযন্ত্রের গুরুতর সমস্যায় আক্রান্ত হন, তখন তাকে সিসিইউ-তে রাখা হয়। তবে হৃদরোগের পাশাপাশি যদি অন্য অঙ্গের (যেমন কিডনি বা ফুসফুস) সমস্যা থাকে, তবে তাকে আইসিইউ-তে স্থানান্তর করা হতে পারে।
আইসিইউ : যখন একাধিক অঙ্গের সাপোর্ট লাগে
এর পূর্ণরূপ ‘ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিট’। রোগীর যখন একাধিক অঙ্গ বিকল হওয়ার উপক্রম হয় এবং কৃত্রিমভাবে সচল রাখার প্রয়োজন পড়ে, তখন তাকে এখানে নেওয়া হয়। যেমন—কিডনি অকেজো হলে ডায়ালিসিস বা ফুসফুস কাজ না করলে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দেওয়া।
লাইফ সাপোর্ট বা ভেন্টিলেশন কী?
সহজ ভাষায়, যখন রোগীর ফুসফুস নিজে থেকে শ্বাস নিতে পারে না বা শরীর থেকে বিষাক্ত গ্যাস বের করতে পারে না, তখন মেশিনের সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখা হয়। একেই ভেন্টিলেশন বা লাইফ সাপোর্ট বলে।
লাইফ সাপোর্ট মানেই কি মৃত্যু?
সাধারণ মানুষের ধারণা, লাইফ সাপোর্টে গেলে কেউ ফিরে আসে না। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, এটি ভুল ধারণা। এটি একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যা রোগীকে বাঁচানোর জন্যই দেওয়া হয়। দেরিতে চিকিৎসা শুরু করা বা সঠিক মানের আইসিইউ না হওয়ার কারণে অনেকে মারা যান, যা এই ভুল ধারণা তৈরি করেছে।
উন্নত আইসিইউ-তে ৬০-৭০ শতাংশ রোগী লাইফ সাপোর্ট থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন।
সূত্র : বিবিসি বাংলা