পার্বত্য তিন কমিটি নিয়ে ৫২ নাগরিকের উদ্বেগ

তাদের আশঙ্কা, এটি শাসক দল বিএনপির প্রতিশ্রুত ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের ইশতেহারের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সম্প্রতি গঠিত সরকারের উচ্চপর্যায়ের তিনটি কমিটি গঠন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের ৫২ জন বিশিষ্ট নাগরিক।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে তারা সতর্ক করে জানান, এক তরফা এসব পদক্ষেপ পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীদের দীর্ঘদিনের সমস্যাকে টিকিয়ে রাখবে এবং দমন-পীড়নের পথ উন্মুক্ত করবে।

বিবৃতিতে নাগরিকেরা উল্লেখ করেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি’, ‘নির্বাহী কমিটি’ এবং ‘পরামর্শক কমিটি’ গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি হয়। তবে এসব কমিটির সচিবালয় সংক্রান্ত সুবিধা নিরাপত্তা বাহিনীকে অর্পণ করায় এটি একটি ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও কর্তৃত্বপরায়ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

তাদের আশঙ্কা, এটি শাসক দল বিএনপির প্রতিশ্রুত ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের ইশতেহারের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১৯৯৭ সালে ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের ২৯ বছর পার হলেও মৌলিক ধারাগুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে গত ফেব্রুয়ারির (২০২৬) সাধারণ নির্বাচনে পাহাড়ের মানুষ পূর্ণ সমর্থন দিয়ে বিএনপি প্রার্থীদের জয়ী করলেও, সরকারের এসব পদক্ষেপে পাহাড়িদের মতামতকে তোয়াক্কা করা হয়নি। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অ-পাহাড়ি প্রতিনিধি নিয়োগ এবং সাবেক আমলা ও নিরাপত্তা প্রেসক্রিপশনে পাহাড়ি সমস্যা সমাধানের চেষ্টাকে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় বলে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, নিজেরা করি’র খুশী কবির, টিআইবি-র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও সুব্রত চৌধুরী, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম এবং এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা প্রমুখ।

পুরো বিবৃতি দেখুন 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত