শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যেন তাদের পথ চলার অন্তরায় হয়নি, কিন্তু সংসার চালানোর পথ যখন বন্ধ, তখন জীবন থমকে দাঁড়ায়। চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার বাসিন্দা সাইরা তাসসিন ও শহিদুল আলম নামের এক প্রতিবন্ধী দম্পতির কষ্টের সীমা ছিল না। কিন্তু মানবিক এক প্রশাসকের হস্তক্ষেপে আজ তাদের দুয়ারে ফিরে এসেছে বেঁচে থাকার নতুন ঠিকানা-একটি অটো রিকশা।
সংসারে এক কন্যাসন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে সাইরা ও শহিদুলের জীবন ছিল অভাবের সঙ্গে লড়াইয়ের নামান্তর। মাত্র ৩ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার সাইরা এবং ৪ ফুট উচ্চতার স্বামী শহিদুল। এইচএসসি পাস করা শহিদুল একটি পুরোনো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে কোনোমতে দুই বেলা ডাল-ভাত জোগাড় করতেন। কিন্তু সম্প্রতি সেটি বিকল হয়ে গেলে স্তব্ধ হয়ে যায় সংসারের চাকা।
পথে বসার সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে জেলা সমাজসেবা অফিসার ফরিদুল ইসলামের পরামর্শে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সাপ্তাহিক গণশুনানিতে হাজির হন এই দম্পতি। সারাদেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত জাহিদুল ইসলাম তাদের করুণ অবস্থা শুনে সঙ্গে সঙ্গেই ফোন ধরেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলামকে। তিনি অনুরোধ জানান, জেলা পরিষদের তহবিল থেকে ওই প্রতিবন্ধী পরিবারটির জন্য একটি অটোরিকশা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে।
উপসচিব চৌধুরী রওশন ইসলাম ডিসির সেই মানবিক আহ্বানে সাড়া দেন। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোতাহার হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে শহিদুল আলমের হাতে নতুন একটি অটোরিকশার চাবি তুলে দেন।
রিকশা হাতে পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি শহিদুল ও সাইরা। সোজা চলে যান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে, কৃতজ্ঞতা জানাতে।
এক আবেগঘন মুহূর্তে সাইরা তাসসিন বলেন, মানবিক ডিসি স্যার আমাদের জন্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুরোধ না করলে হয়তো রিকশাটি পেতাম না। আমার স্বামীর একমাত্র রোজগারের পথ এই রিকশাই। বর্তমানে ডিগ্রি অধ্যয়নরত সাইরা আরও জানান, একটি চাকরি পেলে তাঁদের শিশুকন্যা তাহরিমা তাসনিম ইনাইয়াকে আরও ভালোভাবে বড় করতে পারবেন।
শহিদুল আলমও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, শুনেছি মানবিক ডিসি স্যার সাধ্যমতো সবাইকে সাহায্য করেন। নিজ দায়িত্বের বাইরে গিয়েও মানবিক কারণে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। আজ তার প্রমাণ পেলাম।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলাম জানান, ডিসি সাহেবের সুপারিশের ভিত্তিতেই যাচাই-বাছাই শেষে আজ এই সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
একটি অটোরিকশা কারও কাছে নিছক যানবাহন হলেও সাইরা ও শহিদুলের কাছে এটি এখন বেঁচে থাকার অবলম্বন, নতুন স্বপ্নের সূচনা। আর এই মানবিক উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম-যার হহস্তক্ষেপে একটি অসহায় পরিবার ফিরে পেয়েছে নতুন জীবন।
