পারমাণবিক শক্তির বিষয়টি কেবল বিজ্ঞান বা প্রকৌশলের সীমাবদ্ধ গণ্ডিতে আটকে নেই। এটি মানবসভ্যতার অস্তিত্ব, রাজনীতি, নৈতিকতা এবং ভবিষ্যতের এক জটিল সমীকরণ। এ বিষয়ে লিখেছেন অনিন্দ্য নাহার হাবীব
একটি ক্ষুদ্র পরমাণুর নিউক্লিয়াসকে ভেঙে যে বিপুল শক্তির উদ্ভব ঘটে, তা একদিকে যেমন কোটি কোটি মানুষের ঘরে আলোর উৎস হতে পারে, অন্যদিকে নিমিষেই ধূলিসাৎ করে দিতে পারে গোটা একটি জনপদকে। এই দ্বিমুখী সত্যকে সঙ্গী করেই বিংশ শতাব্দী থেকে আজ অবধি এগিয়ে চলেছে পারমাণবিক শক্তি বা নিউক্লিয়ার পাওয়ার
পরমাণুর ভেতর আগ্নেয়গিরি
পারমাণবিক শক্তির মূল রহস্য লুকিয়ে আছে পদার্থের অতি ক্ষুদ্রতম একক পরমাণুর কেন্দ্রে। যখন ইউরেনিয়াম-২৩৫ বা প্লুটোনিয়ামের মতো ভারী মৌলের নিউক্লিয়াসকে একটি নিউট্রন দিয়ে আঘাত করা হয়, তখন সেটি ভেঙে দুই বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় পারমাণবিক বিভাজন বা নিউক্লিয়ার ফিশন। বিভাজনের এই মুহূর্তে সামান্য কিছু ভর শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। আলবার্ট আইনস্টাইনের সেই কালজয়ী ভর-শক্তি সমীকরণ অনুযায়ী, অতি সামান্য ভর থেকেও যে পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় তা কল্পনাতীত। এই শক্তি মূলত তাপ হিসেবে প্রকাশ পায়।
একটি রিয়্যাক্টরের ভেতরে এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালনা করা হয়। সেখানে বোরন বা ক্যাডমিয়ামের তৈরি নিয়ন্ত্রণ দণ্ড বা কন্ট্রোল রড ব্যবহার করে নিউট্রনের গতিবিধি শাসন করা হয় যাতে শৃঙ্খল বিক্রিয়া বা চেইন রিঅ্যাকশনটি হাতের বাইরে চলে না যায়। উৎপন্ন এই প্রচণ্ড তাপ দিয়ে পানিকে ফুটিয়ে বাষ্প তৈরি করা হয়। সেই উচ্চচাপের বাষ্প তখন বিশাল সব টারবাইনকে ঘুরিয়ে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এটি যেন একটি ছোট্ট পরমাণুর জঠরে বন্দি থাকা সূর্যের প্রচণ্ড তেজকে মানুষের প্রয়োজনে ব্যবহার করার এক আধুনিক কৌশল। বিজ্ঞানীরা একে বলেন নিয়ন্ত্রিত অগ্নিপরীক্ষা, যেখানে প্রতিটি সেকেন্ডে কোটি কোটি পরমাণু ভেঙে আমাদের সভ্যতাকে সচল রাখার রসদ জোগাচ্ছে।
রক্তক্ষয়ী ইতিহাস
পারমাণবিক শক্তির ইতিহাস মোটেও শান্তিময় ছিল না। এর যাত্রা শুরু হয়েছিল ধ্বংসের আর্তনাদ আর যুদ্ধের দাবানল দিয়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উত্তাল সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত ম্যানহাটন প্রজেক্টের মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক মারণাস্ত্র তৈরি করা। রবার্ট ওপেনহাইমার এবং তার সহযোগী বিজ্ঞানীরা যখন প্রথম পারমাণবিক বিস্ফোরণ প্রত্যক্ষ করেন, তখন তারাও শিউরে উঠেছিলেন এর বিধ্বংসী ক্ষমতা দেখে। হিরোশিমা এবং নাগাসাকিতে সেই মারণাস্ত্রের প্রয়োগ মানব ইতিহাসে এক অপছন্দনীয় ও কালো অধ্যায় হয়ে আছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে দুটি শহর ছাইয়ে পরিণত হওয়া দেখে বিশ্ববাসী স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল।
যুদ্ধের সেই বিভীষিকা দেখে বিশ্ববাসী যখন শঙ্কিত, তখনই এই ধ্বংসাত্মক প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণে ব্যবহারের চিন্তা শুরু হয়। ১৯৫৩ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ারের বিখ্যাত শান্তির জন্য পরমাণু বা অ্যাটমস ফর পিস উদ্যোগটি এই রূপান্তরের সূচনা করে। তিনি প্রস্তাব করেন যে, পরমাণুর শক্তি কেবল যুদ্ধের জন্য নয়, বরং কৃষি, চিকিৎসা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হওয়া উচিত। এর ফলে বিশ্ব জুড়ে সামরিক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ধুম পড়ে যায়। ধ্বংসের প্রযুক্তি কীভাবে উন্নয়নের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে, পারমাণবিক শক্তি তার এক ধ্রুপদী উদাহরণ। তবে ঠান্ডা যুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন ও আমেরিকার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র জমানোর যে অঘোষিত প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল, তার রাজনৈতিক রেশ এখনো বিশ্বরাজনীতিকে অস্থির করে রাখে।
বিপর্যয়ের ক্ষত
পারমাণবিক শক্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইতিহাসে ঘটে যাওয়া কিছু বিশাল দুর্ঘটনা। ১৯৮৬ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের চেরনোবিলে যে বিপর্যয় ঘটেছিল, তা বিশ্বকে প্রথমবার বুঝিয়ে দিয়েছিল মানুষের সামান্য ভুল কতটা ভয়াবহ হতে পারে। রিয়্যাক্টরের নকশায় ত্রুটি এবং অপারেটরদের অসাবধানতার কারণে সেখানে যে বিস্ফোরণ ঘটে, তার ফলে নির্গত তেজস্ক্রিয়তা মেঘের মতো ভেসে ইউরোপের বিশাল অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল। চেরনোবিল আজও এক পরিত্যক্ত ভুতুড়ে শহর হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, যা আমাদের অহমিকার বিরুদ্ধে এক নীরব সতর্কতা।
এরপর ২০১১ সালে প্রযুক্তিতে উন্নত দেশ জাপানের ফুকুশিমায় ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামির আঘাতে যে বিপর্যয় ঘটে, তা আধুনিক বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতাকে নতুন করে সামনে আনে। সমুদ্রের নোনা পানি রিয়্যাক্টরের শীতলীকরণ ব্যবস্থাকে অকেজো করে দিয়েছিল, যার ফলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার উপক্রম হয়। এই দুর্ঘটনাগুলো কেবল পরিবেশের ক্ষতি করেনি, বরং বিশ্ব জুড়ে পারমাণবিক শক্তির বিরুদ্ধে এক বিশাল জনমত তৈরি করেছে। তবে এই অন্ধকার থেকে শিক্ষা নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখন আরও আধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে রিয়্যাক্টরগুলোতে এমন সব স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা থাকে যা কোনো মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই বিপদের মুহূর্তে কেন্দ্রটিকে নিরাপদ করে তুলতে পারে। থার্ড জেনারেশন বা চতুর্থ প্রজন্মের রিয়্যাক্টরগুলো এখন অনেক বেশি নিরাপদ ও দক্ষ।
সম্ভাবনা ও ঝুঁকি
পারমাণবিক শক্তি কেন আধুনিক বিশ্বের জন্য অপরিহার্য, তার পেছনে সবচেয়ে বড় যুক্তি হলো এর পরিবেশবান্ধব চরিত্র। বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন এক অস্তিত্ব সংকটের নাম। কয়লা, তেল বা গ্যাস পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে আমরা বায়ুমণ্ডলে যে পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়ছি, তা পৃথিবীকে উত্তপ্ত করে তুলছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো কিছু পোড়ানো হয় না, তাই এখান থেকে গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গত হয় না বললেই চলে। এছাড়া সৌর বা বায়ু শক্তি পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল সূর্য না থাকলে বা বাতাস না বইলে সেখান থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। কিন্তু পারমাণবিক কেন্দ্র বছরের প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে বেস লোড পাওয়ার বা স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম।
তবে এই সুবিধার বিপরীতে বড় ঝুঁকি হলো তেজস্ক্রিয় বর্জ্য। পরমাণু জ্বালানি ব্যবহারের পর যে বর্জ্য অবশিষ্ট থাকে, তা হাজার হাজার বছর ধরে অত্যন্ত বিপজ্জনক তেজস্ক্রিয়তা ছড়াতে পারে। এই বর্জ্য কোথায় এবং কীভাবে রাখা হবে, তা নিয়ে সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা এখনো তর্কে লিপ্ত। বর্তমানে এগুলোকে মাটির গভীরে বিশাল সব কংক্রিটের আধারে সিল করে রাখা হয়, কিন্তু এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। এছাড়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রাথমিক খরচ আকাশচুম্বী। একটি বিশাল কেন্দ্র তৈরি করতে যে পরিমাণ অর্থ এবং সময় লাগে, তা অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা থাকলে পারমাণবিক জ্বালানি বা প্রযুক্তি ভুল হাতে পড়ার ঝুঁকিও থেকে যায়।
রূপপুর স্বপ্নগাথা
উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারমাণবিক শক্তির পথে হাঁটা ছিল একটি সাহসী ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত। পাবনার রূপপুরে নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও কারিগরিভাবে জটিল প্রকল্প। বিশাল জনগোষ্ঠীর বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এবং শিল্পায়নের চাকা সচল রাখতে কেবল গ্যাস বা কয়লার ওপর নির্ভর করা সম্ভব নয়। রূপপুর কেন্দ্রটি যখন পূর্ণ ক্ষমতায় চালু হবে, তখন এটি দেশের মোট চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করবে এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করবে।
তবে বাংলাদেশের মতো একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশে এমন প্রকল্প নিয়ে জনগণের মধ্যে যৌক্তিক কিছু আশঙ্কাও কাজ করে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি এখানে অত্যন্ত সংবেদনশীল। বাংলাদেশ সরকার রাশিয়ার সহায়তায় এই প্রকল্পে ভিভিইআর-১২০০ মডেলের রিয়্যাক্টর ব্যবহার করছে, যা সুরক্ষা ব্যবস্থার দিক থেকে অত্যন্ত উন্নত। রাশিয়ার সঙ্গে বর্জ্য ফেরত নেওয়ার চুক্তিও এই প্রকল্পের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। রূপপুর কেবল একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, এটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার এক নতুন পরিচয়। এটি সফল হলে বাংলাদেশ বিশ্বের অভিজাত পরমাণু ক্লাবের সদস্য হিসেবে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করতে পারবে।
নিউক্লিয়ার ফিউশন
পারমাণবিক শক্তির ভবিষ্যৎ কেবল বর্তমানের ফিশন বা বিভাজন প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ নেই। বিজ্ঞানীরা এখন কাজ করছেন নিউক্লিয়ার ফিউশন বা পারমাণবিক সংযোজন নিয়ে। এটি সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সূর্য ও নক্ষত্ররা কোটি কোটি বছর ধরে শক্তি উৎপাদন করে চলেছে। ফিউশন প্রক্রিয়ায় দুটি হালকা হাইড্রোজেন পরমাণুকে উচ্চ তাপ ও চাপে যুক্ত করে হিলিয়াম তৈরি করা হয়, যা থেকে পাওয়া যায় অফুরন্ত শক্তি। এই প্রক্রিয়ায় কোনো দীর্ঘমেয়াদি তেজস্ক্রিয় বর্জ্য তৈরি হয় না এবং বিস্ফোরণের ঝুঁকিও নেই বললেই চলে।
বর্তমানে ফ্রান্সের দক্ষিণ অংশে আই-টি-ই-আর বা আন্তর্জাতিক থার্মোনিউক্লিয়ার পরীক্ষামূলক রিয়্যাক্টর প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো মিলে একটি কৃত্রিম সূর্য তৈরির চেষ্টা করছে। যদি এই ফিউশন প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়, তবে পৃথিবীর জ্বালানি সংকট চিরতরে ইতিহাসের পাতায় চলে যাবে। সাগর থেকে পাওয়া হাইড্রোজেন দিয়েই তখন চলবে সারা বিশ্ব। এটি হবে মানব সভ্যতার ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম প্রযুক্তিগত বিপ্লব। এছাড়া ছোট মডুলার রিয়্যাক্টর বা এস-এম-আর প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটছে, যা দূরবর্তী অঞ্চলগুলোতে সহজে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে পারবে।
নৈতিকতার প্রশ্ন
সবশেষে আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায় কিছু গভীর দার্শনিক ও নৈতিক প্রশ্ন। আমরা কি এমন এক শক্তির ওপর অসীম ভরসা করতে পারি, যা নিয়ন্ত্রণ হারালে আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য এক বিষাক্ত পৃথিবী রেখে যাবে? বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রাকে রুদ্ধ করা অসম্ভব, কিন্তু সেই অগ্রযাত্রার পেছনে বিবেকের লাগাম থাকা জরুরি। শক্তির নৈতিকতা বলে যে একটি বিষয় আছে, তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃতিকে জয় করার নেশায় আমরা যেন প্রাকৃতিক ভারসাম্য ধ্বংস না করি। পারমাণবিক শক্তি যেন এক আধুনিক প্রমিথিউসের আগুন। গ্রিক পুরাণে প্রমিথিউস দেবতাদের কাছ থেকে আগুন চুরি করে মানুষকে দিয়েছিলেন উন্নয়নের জন্য, কিন্তু সেই আগুন যেমন সভ্যতা গড়েছে, তেমনি যুদ্ধের অস্ত্রও তৈরি করেছে। পরমাণুর ভেতরের এই অমিত তেজকে যদি আমরা সঠিক প্রজ্ঞা, স্বচ্ছ রাজনীতি এবং কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মুড়িয়ে ব্যবহার করতে পারি, তবেই এটি হবে আশীর্বাদ। আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রযুক্তি কেবল একটি মাধ্যম; একে ধ্বংস নাকি নির্মাণে ব্যবহার করা হবে, সেই দায়ভার সম্পূর্ণভাবে মানুষের। আগামীর পৃথিবী হবে পরমাণুর শক্তিতে আলোকিত, কিন্তু সেই আলোর নিচে যেন অন্ধকারের কোনো ছায়া না থাকে, সেটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।