মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ক্রমাগত অবনতির মধ্যে নিজের দেশ যেন ‘শক্তিশালীভাবে বেঁচে থাকে’ এমন আশা ব্যক্ত করতে গিয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারলেন না ইরানি স্ট্রাইকার সারা দিদার।
গোল্ড কোস্টে আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নারী এশিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচের আগে, বুধবার সংবাদ সম্মেলনে একজন দোভাষীর মাধ্যমে কথা বলেন দিদার। নিজের দেশ এবং সতীর্থদের পরিবার নিয়ে উদ্বেগের কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
গত সপ্তাহের শেষে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এর ফলে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত খেলোয়াড়দের পক্ষে ইরানে থাকা তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। গোল্ড কোস্টে ফার্সি ভাষায় সাংবাদিকদের দিদার বলেন, ‘ইরানে আমাদের এবং আমাদের পরিবারগুলোর সঙ্গে যা ঘটছে, তা নিয়ে আমরা স্পষ্টতই উদ্বিগ্ন এবং মর্মাহত।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি সত্যিই আশা করি আমাদের দেশের জন্য সামনে ভালো খবর আসবে এবং আমার দেশ শক্তিশালীভাবে টিকে থাকবে।’
২১ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার যখন দোভাষীর মাধ্যমে তার উত্তরের ইংরেজি অনুবাদ শুনছিলেন, তখন তার চোখ বেয়ে পানি পড়তে শুরু করে এবং তিনি দ্রুত সংবাদ সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন।
ইরানের খেলোয়াড় এবং প্রধান কোচ মারজিয়েহ জাফারি বলেন, ‘এখানকার ইরানি-অস্ট্রেলিয়ানরা আমাদের সমর্থন করছে দেখে আমরা খুব খুশি। অবশ্যই আমাদের পরিবার এবং প্রিয়জনদের নিয়ে আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি, যাদের থেকে আমরা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। তবে এখানে আমরা পেশাদার ফুটবল খেলতে এসেছি এবং সামনের ম্যাচে মনোনিবেশ করার জন্য আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
ইরান দল বুধবার দেরিতে অনুশীলনের কথা ছিল। ২০২৩ সালের অলিম্পিক বাছাইপর্বের পর এই প্রথম তারা অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে। দুই দলই গোল্ড কোস্টের একই হোটেলে অবস্থান করছে। এই ম্যাচে জিতলে অস্ট্রেলিয়ার এশিয়ান কাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত হবে।