যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহে চাপ

আলোকসজ্জা পরিহার ও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার অনুরোধ

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৮ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতে সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ে জোর দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে রমজান মাসে সব ধরনের আলোকসজ্জা পরিহার এবং ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে অনুরোধ জানিয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেছে মন্ত্রণালয়।

জ্বালানি সংকট পরিস্থিতি মোকাবিলায় গতকাল বুধবার সকালে জরুরি সভা করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। সভায় জানানো হয়, জ্বালানির সম্ভাব্য উৎসগুলো থেকে কাক্সিক্ষত পরিমাণে ও সঠিক সময়ে জ্বালানির সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার জন্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জ্বালানি সংগ্রহ স্বাভাবিক রাখতে সব উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব, বিপিসির চেয়ারম্যান, পিডিবির চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সাময়িক সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ সফল করার জন্য জনগণকে ধৈর্য ধারণ করে সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।

সভা শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, এই সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, বৈশ্বিক। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান মজুদ দিয়েই পরিস্থিতি সামলাতে হবে। সেজন্য ‘বিভিন্ন সেক্টরে রেশনিং করার’ কথা ভাবছে সরকার।

এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে সারা বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহ বিঘিœত হচ্ছে। এর ফলে অনিবার্যভাবে দেশের জ্বালানি খাতেও সাময়িক সংকট তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহে সাময়িক বিঘœ ঘটতে পারে। জ্বালানি সরবরাহ হ্রাস পেতে পারে বা সাময়িক সমন্বয় করার প্রয়োজন হতে পারে, যার প্রভাবে বিদ্যুৎ ও সারের উৎপাদন কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

খোলাবাজারে ডিজেল, পেট্রোল বিক্রি না করার জন্য ব্যবসায়ীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক হতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও বলা হয়, প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে জ্বালানি পাচার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ইতিমধ্যে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত