আধুনিক টেকসই পোশাকশিল্প চায় বিজিএমইএ

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৬, ০১:০০ এএম

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পকে বৈশ্বিক বাজারে আরও আধুনিক, টেকসই এবং উদ্ভাবননির্ভর খাতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের (বিবিএফ) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন বিজিএমইএর সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান এবং বিবিএফের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম।

এই সমঝোতা স্মারকের মূল লক্ষ্য হলোফ্রম ফ্যাক্টরি নেশন টু ইনোভেশন নেশন-রিইম্যাজিনিং বাংলাদেশ অ্যাপারেল ২০৩০শীর্ষক কৌশলগত রূপকল্প বাস্তবায়ন করা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক খাতকে শুধু উৎপাদননির্ভর শিল্প হিসেবে নয়, বরং উদ্ভাবন, ব্র্যান্ডিং এবং টেকসই উন্নয়নের ওপর ভিত্তি করে একটি আধুনিক বৈশ্বিক শিল্প খাতে পরিণত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি পোশাকশিল্পের বৈশ্বিক ব্র্যান্ডিং জোরদার করা, শিল্পে উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং নতুন প্রজন্মকে এই খাতে যুক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিজিএমইএতে একটি ইনোভেশন ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হবে, যেখানে তরুণ উদ্ভাবকরা শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করতে পারবেন।

ছাড়া শিল্পে দক্ষ নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্যে একটি লিডারশিপ একাডেমি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা মধ্যম উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং নারী নেতৃত্ব বিকাশে ভূমিকা রাখবে।

নতুন প্রজন্মকে পোশাকশিল্পে আগ্রহী করে তুলতে ইউথ ফেস্ট, ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসাডর প্রোগ্রাম এবং জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজনের কথাও রয়েছে এই উদ্যোগে। চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব কারখানাগুলোর সাফল্যকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শিল্পের অগ্রগতি নিয়ে নলেজ রিপোর্ট কেস স্টাডি তৈরি করা।

বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে জাপানি ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে দেশের গ্রিন ফ্যাক্টরিগুলোর সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং দুই দেশের ডিজাইনারদের সমন্বয়ে একটি বৈশ্বিক টেকসই ফ্যাশন ব্র্যান্ড তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে আধুনিক পরিবেশবান্ধব শিল্প হাব হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।

দুই বছর মেয়াদি এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ নিজেকে একটি বিশ্বমানের উদ্ভাবনী পোশাকশিল্প হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত