আলফাডাঙ্গায় নামাজ শেষে বৃদ্ধকে কিল-ঘুষির ভিডিও ভাইরাল

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৬, ০২:২৬ পিএম

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জুমার নামাজ শেষে মসজিদের সামনে এক বৃদ্ধকে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ২৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি প্রকাশ্যে বৃদ্ধকে কিল-ঘুষি মারছেন। পরে একজন এগিয়ে এসে হামলাকারীকে ধরে ফেলেন এবং আহত বৃদ্ধকে সেখান থেকে সরিয়ে নেন।

শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে আলফাডাঙ্গা নূরানী জামে মসজিদের সামনে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে মামলা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসনাত খান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মারধরের শিকার বৃদ্ধ মনোয়ার খান (৬৫) এবং অভিযুক্ত ইয়াদ শেখ (৪০) আলফাডাঙ্গা পৌরসভার কুসুমদি গ্রামের বাসিন্দা। ইয়াদ শেখ নিজেকে উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি দাবি করলেও স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, আগের কমিটি বাতিল হওয়ায় বর্তমানে তার কোনো সাংগঠনিক পদ নেই। আহত মনোয়ার খান আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

স্থানীয় সূত্র ও থানায় করা অভিযোগে জানা যায়, মনোয়ার খানের ছেলে মাসুদ পারভেজ (৩৫) দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। এ সময় তার স্ত্রী লিমা খান (২৭) দুই সন্তান নিয়ে গ্রামে বসবাস করতেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় লিমা খানের সঙ্গে ইয়াদ শেখের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে পারিবারিক বিরোধ শুরু হয় এবং গত বছরের ২৩ অক্টোবর আদালতের মাধ্যমে মাসুদ পারভেজ তার স্ত্রীকে তালাক দেন।

পরিবারের দাবি, গত ২২ ফেব্রুয়ারি মাসুদ পারভেজ দেশে ফেরার পর ইয়াদ শেখ তার সাবেক স্ত্রীকে আবার ঘরে তোলার জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় বিরোধ আরও বাড়ে। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর ইয়াদ শেখ কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে মনোয়ার খানকে মারধর করেন। পরে হামলাকারীরা মাসুদ পারভেজের বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

অভিযোগের বিষয়ে ইয়াদ শেখ বলেন, 'একটা হালকা মারামারি হয়েছে। এটা পারিবারিক বিষয়।' 

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, 'এক সময় উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন ইয়াদ শেখ। পরে ওই কমিটি বাতিল করা হয়েছে।'

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসনাত খান খান জানান, পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তিনি বলেন, 'ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।'

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত