যে সমীকরণ মেলালে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ!

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৫ এএম

শিরোনাম দেখে নিশ্চয় অবাক হচ্ছেন! নারী এশিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচে হারা বাংলাদেশকে নিয়ে বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখাকে নিশ্চয় রসিকতাও ভাবছেন। তবে অসম্ভব এই স্বপ্নটা সত্যি হয়ে যেতেও পারে। যদিও স্বপ্নপূরণে বাংলাদেশকে পাড়ি দিতে হবে উত্তাল সাগর। যা পাড়ি দেওয়ার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে শনিবার অস্ট্রেলিয়ার পার্থে পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীতে সোমবার তাদের প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান। ৬৩ ধাপ এগিয়ে থাকা মধ্য এশিয়ার দেশটিকে হারালে কোয়ার্টার ফাইনালের সম্ভাবনা তৈরি হবে। যদি কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হয়, তবেই মিলবে বিশ্বকাপের সিঁড়ি। কঠিন যে সিঁড়ি বেয়ে বিশ্বকাপের দরজা খুলেও ফেলতে পারে বাংলাদেশ।

সমীকরণটা এ রকম কোয়ার্টার ফাইনালে যদি বাংলাদেশ পৌঁছায় তবে দল ফিরবে সিডনিতে। সেখানে শেষ আটের ম্যাচে জিতলে সরাসরি মিলবে বিশ্বকাপের টিকিট। হারলে স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে যেতে হবে গোল্ড কোস্টে। অর্থাৎ উজবেকিস্তানকে হারিয়ে শেষ আটে যেতে পারলে আরও দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ মিলবে বাংলাদেশের।

তবে বাংলাদেশের কোচ, খেলোয়াড়রা এখনই অতদূর পর্যন্ত ভাবতে চাচ্ছেন না। তাদের ভাবনার পুরোটা জুড়ে উজবেকিস্তান। বি গ্রুপে সেরা দুইয়ে থাকার আর সুযোগ নেই। বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে লড়াই করে হেরেছে ২-০ ব্যবধানে। দ্বিতীয় ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫-০-তে বিধ্বস্ত হয়েছে। উজবেকরা উত্তর কোরিয়া ও চীনের কাছে হেরেছে ৩-০ গোলের একই ব্যবধানে। দুই ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের চেয়ে এক গোল কম হজম করায় এখন পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয়তে উজবেকিস্তান। যা তাদের দিচ্ছে একটু বাড়তি সুবিধা। বাংলাদেশের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করলে তারাই হবে গ্রুপের তৃতীয়। সেক্ষেত্রে তিন গ্রুপ থেকে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে তাদেরও সুযোগ থাকবে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার। আফঈদাদের সে সুযোগ নেই। কোয়ার্টারের অঙ্ক মেলাতে তাদের জয়ের বিকল্প নেই। আবার জিতলেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হবে না। তাদের পেছনে ফেলতে হবে অন্য দুই গ্রুপের তৃতীয় দল দুটিকে।

এ গ্রুপে নিচের দুই দল ফিলিপাইন ও ইরান। বাংলাদেশের মতো তারাও পয়েন্টের খাতা খোলেনি এখন পর্যন্ত। তবে বড় অঘটন না ঘটলে ইরানকে হারিয়ে তৃতীয় হওয়ার সুযোগ আছে ফিলিপাইনের। তবে ফিলিপাইন-ইরান ম্যাচটা ড্র হলে বাংলাদেশের লাভ। সি গ্রুপ থেকে তৃতীয়কে পেছনে ফেলা অবশ্য কঠিন। এই গ্রুপের তৃতীয় স্থানে ভিয়েতনাম। ভারতকে হারিয়ে এর মধ্যেই অর্জন করেছে তারা তিন পয়েন্ট। যদিও শেষ ম্যাচে ভিয়েতনামকে খেলতে হবে আসরের অন্যতম ফেভারিট জাপানের সঙ্গে। (গতকাল জাপানের কাছে ১১-০ গোলে হেরে যাওয়া ভারত খেলবে চাইনিজ তাইপের সঙ্গে)। ধরে নেওয়া যায় ভিয়েতনামই হবে এই গ্রুপের তৃতীয় দল। অর্থাৎ এ এবং সি গ্রুপের তৃতীয় হওয়া দুই দলের সংগ্রহে থাকবে তিন পয়েন্ট। সেক্ষেত্রে উজবেকিস্তানকে হারালেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হবে না বাংলাদেশের। তিন গ্রুপের তৃতীয় হওয়া তিন দলই তিন করে পেলে কোয়ার্টার ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারিত হবে গোল গড়ে। দুই ম্যাচে সাত গোল হজম করে এখানেও বাংলাদেশ আছে খানিকটা বেকায়দায়।

তারপরও ধরে নিন, এই জটিল হিসাব মিলিয়ে বাংলাদেশ চলে গেল কোয়ার্টার ফাইনালে। যদি তাই হয় তবে তাদের খেলা পড়বে সিডনিতে ১৪ অথবা ১৫ মার্চ। নিশ্চিতভাবে তাদের মুখোমুখি হতে হবে এ অথবা সি গ্রুপের সেরা দলের। ইতিমধ্যে এ গ্রুপ থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ কোরিয়া ও স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। দুই জয়ে সি গ্রুপ থেকে জাপানের শেষ আটে পা রাখা অনেকটাই নিশ্চিত। কোয়ার্টার ফাইনালের হিসাব মিললে বাংলাদেশকে যার বিপক্ষেই খেলতে হবে তারা র‌্যাংকিং ও সামর্থ্যে যোজন এগিয়ে থাকবে। তাই কোয়ার্টারের জটিল হিসাব মেলালেও সেমিফাইনালটা প্রায় অসম্ভব।

কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে আসর থেকে বাদ পড়লেও অবশ্য বাংলাদেশের অভিযান শেষ হচ্ছে না। ২০২৭ নারী বিশ্বকাপের সুযোগ তখনো থাকবে। এশিয়ান কাপের সেরা আট দল সরাসরি খেলবে বিশ্বকাপে। কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যাওয়া চার দলকে দুই ভাগে বিভক্ত করে হবে প্লে-অফ ম্যাচ। সেই প্লে-অফে জিতলে মিলবে বিশ্বকাপের টিকিট। না জিতলেও থাকবে সুযোগ। সেক্ষেত্রে জিততে হবে মহাদেশীয় প্লে-অফ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত