জাকাত ব্যবস্থাপনায় দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৮ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘লক্ষ্যভিত্তিক এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে জাকাত দেওয়া হলে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে শুধু জাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। সমাজের বিত্তবানদের জাকাত যথাযথভাবে দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছালে তা সামাজিক বৈষম্য কমাতে সহায়তা করবে।’ গতকাল শনিবার যমুনায় দেশের আলেম-ওলামা এবং এতিমদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধনী-দরিদ্র সব মিলিয়ে দেশে বর্তমানে পরিবারের সংখ্যা কমবেশি চার কোটি। এসব পরিবারের মধ্যে যদি দরিদ্র কিংবা হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে ৫ লাখ পরিবারকে এক লাখ টাকা করে জাকাত দেওয়া হয়, এসব পরিবারের মধ্যে বেশিরভাগকে পরের বছর আর জাকাত নাও দিতে হতে পারে।’

ওলামা মাশায়েখদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাত ব্যবস্থাপনার বিষয়টি যৌক্তিক মনে হলে এ বিষয়ে বিত্তবানদের সচেতন করার ক্ষেত্রে আপনারা (ওলামা মাশায়েখ) সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘জাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন করার লক্ষ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা, ইসলামিক স্কলার এবং সরকারি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিদ্যমান জাকাত বোর্ড পুনর্গঠন সম্ভব। জাকাতকে দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যবহার করে ইসলামী বিশ্বে বাংলাদেশকে একটি মডেল হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন গবেষণা রিপোর্টে দেখা গেছে, প্রতি বছর বাংলাদেশে জাকাতের পরিমাণ ২০/২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়ে থাকে। কেউ কেউ এর পরিমাণ আরও অনেক বেশি বলেছেন। তবে সুপরিকল্পিত এবং সুসংগঠিতভাবে জাকাত বণ্টন না করায় বিত্তবান ব্যক্তির জাকাত আদায় হয়ে গেলেও জাকাতের অর্থ দারিদ্র্য বিমোচনে কতটা ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে এটি একটি বড় প্রশ্ন।’

অসাধু পন্থা অবলম্বন না করতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান : ইফতার মাহফিলে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পবিত্র রমজান ত্যাগ এবং সংযমের মাস। রহমত-বরকত-সংযমের মাস। অথচ রমজান এলেই আমাদের কেউ কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেন। এই মাসকে লোভ-লাভের মাস বানিয়ে ফেলেন। পবিত্র মাসেও যারা অসাধু পন্থা অবলম্বন করছেন আপনাদের প্রতি বিনীত আহ্বান, আপনারা মানুষের কষ্টের কারণ হবেন না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আলেম ওলামা মাশায়েখ এবং এতিমদের সম্মানে আমরা সাধারণত পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে থাকি। তবে দেশের চলমান বাস্তবতায় এবার আমাদেরকে একটু দেরিতেই করতে হয়েছে। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতিটির কারণে গ্যাস বিদ্যুৎ জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যয় সংকোচন এবং কৃচ্ছ্র সাধনের অংশ হিসেবে এবারের রোজায় মোট দুটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছি। বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবারের রোজায় এটিই হয়তো শেষ ইফতার মাহফিল হবে।’

ইফতার মাহফিলে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসার এতিম শিশু ও আলেম-ওলামারা অংশ নেন। তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণবিষয়ক মন্ত্রী প্রফেসর ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, আসসুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমেদুল্লাহ এবং জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রেস সচিব ছালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এর আগে দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রী তেজগাঁও অফিসে আসেন। এরপরই পাটজাত পণ্যের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো ও বাজার সম্প্রসারণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক কৃষিবিদ ড. নার্গীস আক্তার।

প্র্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর টানা তিন শনিবার রাজধানীর তেজগাঁও কার্যালয়ে অফিস করেন তিনি। তার সঙ্গে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং শিক্ষা ও প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ছালেহ শিবলি, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও ছিলেন।

সর্বস্তরে নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ : আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্র্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বের সব নারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, ‘সরকার শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও রাজনীতিসহ সব স্তরে নারীর সক্রিয় ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে নারী-পুরুষ সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। সম্মান ও মর্যাদা এবং নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজে কাজ করবে।’

তিনি বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে বলে আমি মনে করি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করা, উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, মেয়েদের জন্য ফ্রি স্কুল ইউনিফর্ম, ডিজিটাল লার্নিং সুবিধা এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা।

সরকার নারীর নিরাপত্তা বিধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাইবার বুলিং এবং অনলাইনে নারীর বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের বিদ্যমান সমাজে সমতা হোক অঙ্গীকার, মর্যাদা হোক বাস্তবতা, আর ক্ষমতায়ন হোক উন্নয়নের ভিত্তি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত