কেন প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চাইলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট?

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৮ এএম

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়ে আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছেন। শনিবার (৭ মার্চ) অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের অংশ হিসেবে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যেসব হামলায় প্রতিবেশী দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন এবং ইরানের প্রতিবেশী রাষ্ট্রে আক্রমণ চালানোর উদ্দেশ্য নেই বলে জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, 'যেসব প্রতিবেশী দেশে হামলা হয়েছে, তাদের কাছে ক্ষমা চাওয়া প্রয়োজন মনে করি। আমাদের লক্ষ্য তাদের আক্রমণ করা নয়।' পাশাপাশি তিনি জানান, যদি কোনো দেশের ভূখণ্ড থেকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা না হয়, তাহলে সেখানে আঘাত হানার নির্দেশও দেওয়া হবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষমা চাওয়ার পেছনে মূল উদ্দেশ্য হতে পারে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের সামরিক নেতৃত্বে বড় ধাক্কা লাগে এবং কমান্ড কাঠামোও কিছুটা বিঘ্নিত হয়। সেই পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও খারাপ হলে ইরান কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।

তবে বাস্তবে পরিস্থিতি কতটা বদলাবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। শনিবারই কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা তাদের দিকে আসা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে, যেগুলো ইরান-সম্পর্কিত বাহিনীর বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মৃত্যুর পর দেশটির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এখন একটি অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদের হাতে রয়েছে। ফলে সামরিক বাহিনী ও বিপ্লবী গার্ডের ওপর বেসামরিক নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

দেশের ভেতরেও এই বক্তব্য নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে। কিছু কট্টরপন্থী নেতা প্রেসিডেন্টের ক্ষমা চাওয়াকে দুর্বলতা হিসেবে সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান প্রতিবেশীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে আত্মসমর্পণ করেছে, যা তিনি মার্কিন ও ইসরায়েলি চাপের ফল বলে উল্লেখ করেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের বক্তব্য মূলত উত্তেজনা কমানোর কৌশল হতে পারে, সরাসরি আত্মসমর্পণের ইঙ্গিত নয়।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পেজেশকিয়ান হয়তো যুদ্ধবিরতির পরিবেশ তৈরি করতে চান এবং একই সঙ্গে ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের লড়াইয়েও নিজেকে আলোচনাযোগ্য একজন বাস্তববাদী নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত এই ক্ষমা চাওয়া বাস্তবে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে মাঠের পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতিক্রিয়ার ওপর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত