গোলাম পরওয়ার

ভোটের সময় নয়, ফল ঘোষণার আগেই ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ভোটগ্রহণ চলাকালে বড় ধরনের অনিয়ম চোখে না পড়লেও ভোট গণনা, ফলাফল প্রস্তুত ও প্রচারের মাঝামাঝি সময়েই “ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং” করা হয়েছে। 

আজ সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে খুলনা মহানগরীর হোটেল গ্রান্ড প্লাসিডে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ভোটের দিন পরিবেশ উৎসবমুখর ছিল। মানুষ বাধাহীনভাবে ভোট দিয়েছে। কিন্তু পরে ফলাফল ঘোষণার আগে যে রহস্যময় বিরতি তৈরি হলো, সেটাই বড় প্রশ্ন।

গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন আসন থেকে বিরোধী জোটের প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার খবর আসছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই ফলাফল প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। তার ভাষায়, এই সময়টাতেই কী ঘটেছে, সেটার জবাব সরকার কিংবা নির্বাচন কমিশন কেউই স্পষ্ট করে দিতে পারেনি।

তিনি বলেন, অল্প ভোটের ব্যবধানে থাকা বেশ কয়েকটি আসনে উপর থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আদালত ও নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি আসনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে। অনেক মানুষ আছেন যারা কখনো জামায়াত করেননি, এমনকি দাঁড়িপাল্লার স্লোগানও দেননি- তারাও এবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন।

রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর যে সংস্কারের অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন নিয়ে এখন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের কিছু অবস্থান সেই অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। 

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন,  সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে তার দল সরকারকে ভালো কাজে সহযোগিতা করবে। তবে অন্যায় দেখলে সংসদ ও রাজপথ- দুই জায়গাতেই প্রতিবাদ জানাবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমানের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম। আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও হিন্দু মহাজোটের খুলনা জেলা সভাপতি কৃষ্ণ নন্দী।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে খুলনা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যে ইঞ্জিনিয়ারিং করে তাকে এবং মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ জামায়াতকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে সেটি অন্তবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রেজওয়ানা হাসানের বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। সুতরাং দেশবাসীর আর বুঝতে বাকী নেই বিগত নির্বাচনে কি হয়েছে

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত