কুড়িগ্রামে পানির ট্যাংকে চেতনানাশক মিশিয়ে চুরির চেষ্টা, অসুস্থ ৭

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে একটি বসতবাড়ির পানির ট্যাংকে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে চুরির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের ৫ সদস্য এবং তাদের প্রতিবেশী স্বামী-স্ত্রীসহ মোট সাতজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজারহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজারহাটে উপজেলার পূর্বদেবত্তর গ্রামে এঘটনা ঘটে।

​অসুস্থরা হলেন, পূর্বদেবত্তর গ্রামের বাসিন্দা অনিল চন্দ্র রায় (৫৫), তার স্ত্রী শান্তনা রানী রায় (৪৫), মেয়ে অর্পিতা রানী রায় (১৫), ছেলে চন্দন কুমার রায় (৩০), চন্দনের স্ত্রী পূজা রানী রায় (২২) এবং পাশের বাড়ির ভাতিজা মাধব চন্দ্র রায় (৪২) ও মাধবের স্ত্রী শিল্পী রানী রায় (৩২)।

​স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তরা চুরির উদ্দেশ্যে কৌশলে ওই বাড়ির পানির ট্যাংকে চেতনানাশক বা বিষাক্ত কোনো দ্রব্য মিশিয়ে দিয়ে কেটে পড়ে। রাতের খাবার ও দৈনন্দিন কাজে ওই পানি ব্যবহার করার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিবারের সদস্যরা এবং প্রতিবেশী ওই দম্পতি বিষক্রিয়ায় অসুস্থ ও অচেতন হয়ে পড়েন। পরবর্তীকালে রাত আনুমানিক ৪টার দিকে দুর্বৃত্তরা চুরির উদ্দেশ্যে বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় পরিবারের সদস্য চন্দন কুমার রায় তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় ঘরে চোরের উপস্থিতি টের পান। তিনি সাহসিকতার সঙ্গে চোরকে ধাওয়া করলে চোর চক্রটি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তবে বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারের কারণে কোনো চোরকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ভোরে প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানতে পেরে অচেতন অবস্থায় সাতজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

ওসি মামুনুর রশীদ বলেন, বুধবার সকালে বিষয়টি আমরা মৌখিকভাবে শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। অসুস্থ পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অসুস্থদের রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত