গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বুধবার সকালে আলোচনা ও মতবিনিময়সভা করেছে নাওজোড় হাইওয়ে পুলিশ। সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা। এসব অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় সুন্দর ঈদযাত্রার আশ্বাস দিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি (অপারেশনস-উত্তর) মো. রফিকুল হাসান গণি।
মতবিনিময় সভা ও আলোচনা সূত্রে জানা গেছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক। এ মহাসড়কের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে চন্দ্রা কেন্দ্রীক সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বুধবার সকালে আলোচনা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করে নাওজোড় হাইওয়ে পুলিশ।
হাইওয়ে পুলিশের গাজীপুর রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রহমত উল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি (অপারেশনস-উত্তর) মো. রফিকুল হাসান গণি। নাওজোড় হাইওয়ে থানার ওসি সাওগাত আলমের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা-হাইওয়ে পুলিশ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, সাংবাদিক, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন (নিসআ) গাজীপুর প্রতিনিধিদলসহ স্থানীয় লোকজন।
এ সময় উন্মুক্ত আলোচনার সুযোগ দেয় হাইওয়ে পুলিশ। আলোচনায় মহাসড়কের নানা অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা। তারা বলেন, এ মহাসড়কের উপজেলার মৌচাক, সফিপুর, পল্লীবিদ্যুৎ, চন্দ্রা, বোর্ডঘরসহ বিভিন্ন স্থানে সার্ভিস লেন দখল করে বসছে অবৈধ হাট-বাজার, ফুটপাত, ফুটওভার ব্রিজ ও যাত্রী ছাউনি দখল করে রয়েছে অবৈধ দোকানপাট, বিভিন্ন স্থানে ইট-বালু ফেলে ব্যবসা করছে একটি চক্র। দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ অটোরিকশাসহ বিভিন্ন অবৈধ যানবাহন। এসব থেকে নিয়মিত চাঁদা তুলে নিচ্ছেন দলীয় লোকজন ও পুলিশ। ফলে হঠাৎ করে অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করলেও পরদিনই অদৃশ্য ক্ষমতাবলে আবার চালু হচ্ছে। এ ছাড়া অদক্ষ চালক দিয়ে গাড়ি চালানো, এলোমেলো গাড়ি পার্কিং, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, শতাধিক টিকেট কাউন্টারে বাস দাঁড় করিয়ে রাখাসহ বিভিন্ন কারণে প্রায় প্রতিনিয়িত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনা ও যানজট লেগেই থাকে।
সভায় বক্তব্য রাখেন গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার শরিফুল আলম, কালিয়াকৈর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাহিম শাহরিয়ার, বিআরটিএ গাজীপুর সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) এ এম মাহফুজুর রহমানসহ পরিবহন মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজনসহ সাংবাদিকরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি (অপারেশনস-উত্তর) মো. রফিকুল হাসান গণি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদ। এই উৎসব পালন করতে ঢাকা ছেড়ে গ্রামে যান মানুষজন। ৬০ লাখ মানুষ ৩-৪ দিনের মধ্যে রাস্তা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলে যাবে এটা সম্ভব নয়। রাস্তাও আমাদের বাড়ানো সম্ভব নয়। সুতরাং, এই রাস্তাগুলোই যাতে সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায় সেটি নিয়ে কাজ করতে হবে। রাস্তা দখল, রাস্তা পারাপার, গাড়ির ফিটনেস নাই, অতিরিক্ত যাত্রী বহনসহ নানান সমস্যা দেখা দেয় ঈদযাত্রায়। আর মহাসড়কে গাড়ি পার্কিংয়ের সুযোগ নেই। মহাসড়ক ও ফুটপাতে যেন কোনো দোকান বসতে না পারে, এজন্য তিনি পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেন।
