বাংলাদেশসহ ৬০ দেশ তদন্তের আওতায় 

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩০ এএম

পণ্য উৎপাদনে জবরদস্তি শ্রম বন্ধে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে কি না তা নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) বাংলাদেশ সময় শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপিতে এ বিষয়টি জানায়।

তদন্তে দেখা হবে, জবরদস্তি শ্রম ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপন্ন পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোয় আইন, নীতি ও বাস্তব প্রয়োগ কতটা যুক্তিযুক্ত ও বৈষম্যমূলক। একই সঙ্গে যাচাই করা হবে, এসব নীতি বা অনুশীলন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের ওপর কোনো ধরনের বোঝা বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে কি না।

যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১(বি) ধারা অনুযায়ী প্রতিটি দেশের জন্য পৃথকভাবে এ তদন্ত করা হবে। তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের ৬০টি শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হবে, যা সম্মিলিতভাবে দেশটিতে ২০২৪ সালে রপ্তানির ক্ষেত্রে ৯৯ শতাংশের বেশি চালানকে অন্তর্ভুক্ত করবে।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির দেশ রূপান্তরকে গতকাল শুক্রবার বলেন, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে জবরদস্তি শ্রম ব্যবহার করে শ্রমের মজুরি কমিয়ে রাখা ও ভর্তুকি দেওয়াসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হয় কি না, আমেরিকার তদন্তে তা খতিয়ে দেখা হতে পারে। যদি তদন্তে প্রমাণ মেলে যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আবার শুল্ক আরোপ করার সুযোগ নিতে পারে।

আশির দশকে বাংলাদেশ একবার এমন তদন্ত মোকাবিলা করেছে, এমনটা জানিয়ে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে তখনকার বাংলাদেশ সরকার ও পোশাকশিল্প মালিকরা কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে পোশাক শিল্পকে জবরদস্তি শ্রমমুক্ত করেছিলেন।

এখন অন্য খাতের শিল্পে জবরদস্তি শ্রম আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে দেশের অভ্যন্তরেই ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

হুমায়ুন কবির বলেন, আমেরিকার এ তদন্ত শেষ হতে দুই-এক বছর সময় লাগতে পারে।

তদন্তের আওতাধীন দেশগুলো হলো আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বাহামা, বাহরাইন, বাংলাদেশ, ব্রাজিল, কম্বোডিয়া, কানাডা, চিলি, চীন, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ডমিনিকান রিপাবলিক, ইকুয়েডর, মিসর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গুয়াতেমালা, গায়ানা, হন্ডুরাস, হংকং (চীন), ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, ইসরায়েল, জাপান, জর্ডান, কাজাখস্তান, কুয়েত, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, মরক্কো, নিউজিল্যান্ড, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, নরওয়ে, ওমান, পাকিস্তান, পেরু, ফিলিপাইন, কাতার, রাশিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, উরুগুয়ে, ভেনেজুয়েলা এবং ভিয়েতনাম। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, ‘জবরদস্তি শ্রমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ঐকমত্য থাকা সত্ত্বেও সরকারগুলো এমন শ্রমের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন নিষিদ্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও সেগুলো কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছে।’

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দেখছে এ বিদেশি সরকারগুলো জবরদস্তি শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে কি না এবং এসব অনৈতিক চর্চা মার্কিন শ্রমিক ও ব্যবসার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশ ও আরও ১৫টি বাণিজ্য অংশীদারের বিরুদ্ধে শুল্ক-সম্পর্কিত তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেওয়ার একদিন পর জবরদস্তি শ্রমের দিকটি খতিয়ে দেখার ঘোষণা দিল যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এই ১৬টি দেশে  উৎপাদন খাতে কাঠামোগত অতিরিক্ত ক্ষমতা এবং উৎপাদন আমেরিকার পুনঃশিল্পায়ন প্রচেষ্টাকে প্রতিকূলভাবে প্রভাবিত করছে এমন অভিযোগ রয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১(বি) ধারার তদন্তে ‘অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক’ বৈদেশিক বাণিজ্য অনুশীলনের দিকটি দেখা হয়, যা আমেরিকার বাণিজ্যের ওপর বোঝা তৈরি করে। এমন তদন্ত সাধারণত প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ ও বিধিনিষেধ তৈরির প্রতি দিকনির্দেশ করে।

জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, জবরদস্তি শ্রম ব্যবহারকারী কোম্পানিগুলো কৃত্রিমভাবে শ্রমের মজুরির খরচ কমিয়ে লাভবান হয়। এর ফলে, দেশগুলো কম দামে পণ্য বিক্রি করতে সক্ষম হয়। এতে করে, আমেরিকার শ্রমিক ও রপ্তানিকারকরা অসুবিধার সম্মুখীন হন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জবরদস্তি শ্রম বন্ধ করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার এবং অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি অপরিহার্য বিষয়।

আমেরিকার আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের দেশ-নির্দিষ্ট ‘পারস্পরিক শুল্ক’-এর আইনি ভিত্তি বাতিল করার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে নির্বাহী আদেশে শুল্ক-সম্পর্কিত এবং জবরদস্তি শ্রম-সম্পর্কিত এই তদন্ত শুরু হচ্ছে।

জেমিসন গ্রিয়ার তদন্তের আওতাধীন ৬০টি দেশের সরকারের সঙ্গে পরামর্শ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত