কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ‘গুরুজী’ শহীদ আল-বোখারী ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক ও অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষাপটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের প্রস্তাবিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি স্থগিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
গত ৫ মার্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এক আদেশে তাদের আওতাধীন সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে এর সপ্তাহখানেক পর ১২ মার্চ মাউশি সেই আদেশটি স্থগিত করে। শনিবার (১৫ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই স্থগিতাদেশের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রাথমিক সিদ্ধান্তটি পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নেওয়া হয়েছিল। তবে মাউশির আদেশের পর ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কর্মকাণ্ড, তাদের অর্থের উৎস এবং চেয়ারম্যান শহীদ আল-বোখারীকে নিয়ে নানা গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় কর্মসূচিটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের তৈরি ‘বিজ্ঞানসম্মত জীবনযাপন এবং মানসিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা কার্যক্রম’ শীর্ষক ম্যানুয়ালের ভিত্তিতে মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে একদিনের প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। একটি সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার কথা ছিল।
পূর্বের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি হবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। প্রশিক্ষণ পরবর্তী নিয়মিত চর্চা নিশ্চিত করতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি ‘মনিটরিং পুল’ গঠন করার পরিকল্পনা ছিল, যারা প্রতি বছর নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) খান মঈনউদ্দীন আল মাহমুদ সোহেল উভয় আদেশে স্বাক্ষর করেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেওয়া সিদ্ধান্তের আলোকেই তিনি দাপ্তরিক নির্দেশনা জারি করেছেন।
