ঈদের সময় শুভেচ্ছা জানাতে আমরা সাধারণত ‘ঈদ মুবারক’ বলে শুভেচ্ছা জানাই। তবে ঈদ উৎসবের এই শুভেচ্ছার পাশাপাশি হাদিসে বর্ণিত শুভেচ্ছা বিনিময় সম্পর্কে জেনে সে অনুযায়ী আমল করাও উত্তম।
ইসলামে শুভেচ্ছা বিনিময় বা একে অপরের সঙ্গে কথার শুরু ও শেষে যা বলা হয় তার সবই দোয়া। যেমন সালাম দিয়ে বলা হয়, ‘আল্লাহ তাআলা আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত করুন’। বিদায় বেলা ‘ফি আমানিল্লাহ’ বলে দোয়া করা হয়, ‘আল্লাহ তাআলা আপনাকে তার আমানতে রাখুন’।
একইভাবে ‘ঈদ মুবারক’ বলে যখন ঈদের শুভেচ্ছা জানানো হয় তখন বলা হয়, এই ঈদ আপনার জন্য বরকতময় হোক। সাহাবায়ে কেরাম যা বলে ঈদে শুভেচ্ছা জানাতেন তা হলো, ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’।
পরস্পরের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতে শুভেচ্ছা জানাতে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দোয়াটি শিখিয়েছেন। হাদিসে এসেছে, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তার সাহাবাগণ ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে একে অপরকে বলতেন,
تَقَبَّلَ اللهُ مِنَّا وَ مِنْكُمْ
অর্থ: আল্লাহ তাআলা আমাদের ও আপনার নেক আমল তথা ভাল কাজগুলো কবুল করুন।
ঈদের দিনের আগের দিন সন্ধ্যার পর থেকে এই দোয়া দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়। এছাড়া সংক্ষেপে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে ‘ঈদ মুবারক’ও বলা যায়। যেহেতু আরবি তারিখ সূর্য ডোবার পর শুরু হয় তাই ঈদের আগের দিন সন্ধ্যার পর থেকে ঈদের দিন সারাদিন পর্যন্ত এই দোয়া দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়।
অন্য এক বর্ণনায় জুবাইর ইবনু নুফাইর (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) এর সাহাবায়ে কেরাম ঈদের দিন পরস্পর সাক্ষাৎ হলে বলতেন ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়ামিন কুম’। (ফাতহুল কাদির)।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ‘ঈদ মুবারক’ বলা নাজায়েজ নয়, তবে সাহাবায়ে কেরামদের অনুসরণ করে ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ বলা অনেক বেশি সওয়াব ও বরকতময়।