আসন্ন পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) একাদশ আসর নিয়ে বড়সড় দুঃসংবাদ পেল ক্রিকেটপ্রেমীরা। পশ্চিম এশিয়ার চলমান অস্থিরতা এবং এর ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের কারণে এবারের পিএসএল আয়োজিত হবে দর্শকহীন স্টেডিয়ামে। শুধু তা-ই নয়, পূর্বনির্ধারিত ছয়টি ভেন্যু কমিয়ে টুর্নামেন্টটি এখন শুধুমাত্র লাহোর ও করাচিতে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি আজ এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যার বড় প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানে। সরকার সাধারণ মানুষকে চলাফেরা সীমিত করার অনুরোধ জানিয়েছে। স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হচ্ছে এবং ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করা হয়েছে।
নাকভি বলেন, ‘আমরা একদিকে মানুষকে চলাফেরা সীমিত করতে বলছি, অন্যদিকে স্টেডিয়ামে প্রতিদিন ৩০ হাজার মানুষের ভিড় করতে দিতে পারি না। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর আমরা দর্শক ছাড়াই খেলা চালানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
আগের সূচি অনুযায়ী এবার পেশোয়ারসহ ছয়টি শহরে খেলা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দর্শকহীন টুর্নামেন্ট হওয়ায় খরচ কমাতে এবং জনবল সাশ্রয় করতে কেবল লাহোর ও করাচিতেই সব ম্যাচ আয়োজন করা হবে। যারা এরই মধ্যে টিকিট কিনেছিলেন, তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পিসিবি। এছাড়া দর্শকদের অনুপস্থিতিতে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের যে রাজস্ব ক্ষতি হবে, তা বোর্ড পূরণ করে দেবে বলেও জানিয়েছেন নাকভি।
একই সময়ে আইপিএল চলায় এবার পিএসএল থেকে বেশ কয়েকজন বিদেশি খেলোয়াড় নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। জিম্বাবুয়ের ব্লেসিং মুজারাবানি এবং শ্রীলঙ্কার দাসুন শানাকা আইপিএলে সুযোগ পেয়ে পিএসএল ছেড়েছেন। এ ছাড়া ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন জেক ফ্রেজার-ম্যাকগার্ক ও স্পেন্সার জনসনের মতো তারকারা।
চুক্তিভঙ্গ করে শেষ মুহূর্তে আইপিএলে চলে যাওয়া খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মহসিন নাকভি। তিনি বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী আমরা ওই খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। গত বছরও একজনকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, এবারও তেমনটাই ঘটবে।’
আগামী ২৬ মার্চ থেকে শুরু হবে পিএসএল। ৩ মে ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এই আসরের। পরিস্থিতির উন্নতি হলে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে গ্যালারিতে দর্শক ফেরানোর ক্ষীণ সম্ভাবনা থাকলেও তা পুরোপুরি নির্ভর করছে যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর।
