মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারের সাত প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন দুটি বন্ধ, দুটি আংশিক বন্ধ, তিনটিকে সতর্ক

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম

তিন বছর আগে লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। তবুও চলেছে টিজি মাল্টি স্পেশালাইজড হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কাই করেনি প্রতিষ্ঠানটি। ৩০ শয্যার এই হাসপাতালে নয়জন ডাক্তার নিয়োগের বিধান থাকলেও কোনো ডাক্তারের নিয়োগপত্র এবং কর্তব্যরত কোনো ডাক্তার পায়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শুধু তাই নয়; কর্তব্যরত নার্স এবং নার্সদের কোনো নিয়োগপত্রও পায়নি। পায়নি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে এনআইসিইউ কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগের প্রমাণও।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কলেজ গেটের মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারের এই হাসপাতালে পরিদর্শন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নানা অসংগতি পেয়ে পরিদর্শন শেষে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের নির্দেশ দেয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শন টিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হাসপাতালে পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা, যা ভর্তি রোগীদের মধ্যে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করে। অপারেশন থিয়েটারের পরিবেশ অত্যন্ত অপরিষ্কার, যা রোগীদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। এনআইসিইউর পরিবেশও অত্যন্ত অপরিষ্কার এবং যন্ত্রপাতি অপ্রতুল, যা চিকিৎসাসেবার পরিপন্থী।

শুধু এই একটি প্রতিষ্ঠান নয়; মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারের আরও ছয়টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে নানা অসংগতি পেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল সাতটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে দুটি বন্ধ, দুটি আংশিক বন্ধ এবং তিনটিকে সতর্ক করেছে তারা। বন্ধ করে দেওয়া অন্য প্রতিষ্ঠানটি হলো প্রাইম ব্লাড ব্যাংক।

আংশিক বন্ধ করে দেওয়া প্রতিষ্ঠান দুটি হলো: রয়েল মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং প্রাইম অর্থোপেডিক ও জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার। রয়েল মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ডায়াগনস্টিক বিভাগ ও অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। কর্তব্যরত তিনজন চিকিৎসক, ছয়জন নার্স, ল্যাবরেটরি ও রেডিওলজি কনসালটেন্ট এবং বৈধ মালিককে আগামী ৬ এপ্রিল পরিচালক (হাসপাতাল)-এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সাক্ষাৎ করতে বলা হয়েছে।

প্রাইম অর্থোপেডিক ও জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সকল ধরনের আইসিইউ, এনআইসিইউ, ইনডোরে রোগী ভর্তি এবং অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সংশোধনপূর্বক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করতে হবে। পরিদর্শন টিম কর্তৃক পুনরায় পরিদর্শন শেষে কার্যক্রম সন্তোষজনক বলে প্রতীয়মান হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

পরিদর্শনকালে যমুনা হাসপাতাল, ঢাকা হেলথ কেয়ার হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং রেডিয়াম ব্লাড ব্যাংক অ্যান্ড টিসি—এই তিন প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হয়েছে। এর মধ্যে যমুনা হাসপাতালের আইসিইউ, এনআইসিইউ ও ইনডোরে রোগী ভর্তি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন চারজন রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে রাজধানীর আসাদগেট থেকে শ্যামলী রিং রোড এলাকার প্রতিটি ক্লিনিক পরিদর্শন করা হবে। গত ২৩ মার্চ বিকেলে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে নানা অসংগতি পেয়ে তিনি ডক্টরস কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করার নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, এই এলাকায় বেশ কয়েকটি বড় সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। এক শ্রেণির দালাল সরকারি হাসপাতালের রোগী বাগিয়ে এসব ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানে এনে রোগীদের জিম্মি করে সেবার নামে প্রতারণা করে।

এই এলাকায় উল্লেখযোগ্য বড় হাসপাতালগুলোর মধ্যে রয়েছে: শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (এনআইসিভিডি), জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল), ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (এনআইওএইচ) এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত