দাঁতের সুস্থতায় সুস্থ জীবন

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৬, ০১:২০ এএম

প্রতি বছর ২০ মার্চ বিশ্ব জুড়ে পালিত হয় বিশ্ব ওরাল হেলথ দিবস। মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দাঁত ও মাড়ির রোগ প্রতিরোধে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করাই এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর প্রায় ৩৫০ কোটিরও বেশি মানুষ কোনো না কোনো মুখগহ্বরজনিত সমস্যায় ভুগছে। অথচ সঠিক পরিচর্যা ও সচেতনতার মাধ্যমে এসব রোগের অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

অনেকেই মনে করেন দাঁতের সমস্যা শুধু মুখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, কিন্তু বাস্তবে এর সঙ্গে পুরো শরীরের স্বাস্থ্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির রোগ বা মুখের সংক্রমণ শরীরের বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ফুসফুসের রোগ, স্ট্রোক, হাড়ক্ষয়, এমনকি গর্ভাবস্থার কিছু জটিলতার সঙ্গেও মাড়ির রোগের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। দাঁত ও মাড়ি সুস্থ না থাকলে খাবার চিবাতে সমস্যা হয়, যা পরবর্তী সময় হজমের সমস্যা সৃষ্টি করে। এ ছাড়া মুখে দুর্গন্ধ, দাঁতের ব্যথা বা সংক্রমণ একজন মানুষের আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সৌন্দর্য প্রকাশের প্রধান দিক হিসেবে পরিপাটি দাঁতকে সবার ওপরে রাখা হয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় দাঁতের ক্ষয় (ডেন্টাল ক্যারিজ) এবং মাড়ির রোগ (জিনজিভাইটিস ও পেরিওডোন্টাইটিস)। অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার, অপর্যাপ্ত বা নিয়মবহির্ভূত দাঁত পরিষ্কার করা, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের কারণে এসব রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। শিশুদের মধ্যেও দাঁতের ক্ষয় একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় দুধ দাঁতের গুরুত্ব না বুঝে অভিভাবকরা অবহেলা করেন, কিন্তু এই দাঁতগুলো শিশুর সঠিক খাবার গ্রহণ, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, স্থায়ী দাঁতের সঠিক অবস্থান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কীভাবে দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখা যায়

মুখগহ্বরের সুস্থতা বজায় রাখতে কয়েকটি সহজ অভ্যাস অত্যন্ত কার্যকর। প্রথমত, প্রতিদিন অন্তত দুবার ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে সঠিক নিয়মে দাঁত ব্রাশ করা জরুরি। বিশেষ করে সকালে নাশতার পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে ২ মিনিট ব্রাশ করা সবচেয়ে উপকারী।

দ্বিতীয়ত, দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবারের কণা পরিষ্কার করতে ডেন্টাল ফ্লস বা ইন্টার ডেন্টাল ব্রাশ ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির প্রদাহের ঝুঁকি কমে। তৃতীয়ত, অতিরিক্ত মিষ্টি ও চিনি জাতীয় খাবার কম খাওয়া এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা প্রয়োজন। ফল, শাকসবজি ও পর্যাপ্ত পানি, টক দই, দুধ, ডিম, কলিজা দাঁতের জন্য উপকারী। চতুর্থত, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য পরিহার করা উচিত। এগুলো শুধু দাঁত নয়, মুখগহ্বরের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ায়। সবশেষে বছরে অন্তত একবার একজন বিএমডিসি নিবন্ধিত দন্তচিকিৎসকের কাছে দাঁত পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ। 

সচেতনতার গুরুত্ব

বিশ্ব ওরাল হেলথ ডে আমাদের মনে করিয়ে দেয় মুখের স্বাস্থ্য অবহেলা করার বিষয় নয়। পরিবার, স্কুল ও সমাজের প্রতিটি স্তরে মুখগহ্বরের পরিচর্যা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই দাঁতের যতœ নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সুস্থ দাঁত শুধু সুন্দর হাসি নয়, এটি একটি সুস্থ জীবনেরও প্রতীক। তাই আসুন, বিশ্ব ওরাল হেলথ ডে উপলক্ষে আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা করি নিজে সচেতন হবো এবং অন্যদেরও সচেতন করব, যেন প্রতিটি মানুষের মুখে থাকে সুস্থ ও উজ্জ্বল হাসি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত