রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় গোলাগুলির ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে গত রবিবার রাতে গোলাগুলির ঘটনার ভয়াবহ চিত্র। মাদক সিন্ডিকেটের তিন সদস্যকে আটক করে মারধর করে থানায় হস্তান্তর করার সময় গুলির ঘটনা ঘটে।
গতকাল সোমবার স্বামীবাগ, করাতিটোলা ও মুন্সিরটেক এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ। দু-একটি দোকান খোলা। দোকানে বসে কয়েকজন বৃদ্ধ মানুষ সেদিনের রাতের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করছেন। জানতে চাইলে তাদের বেশিরভাগই কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান খান জানান, গোলাগুলির ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে ২০টি কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। সিসি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। অপরাধীদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।
এদিকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল আলামত সংগ্রহ করে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা সিআইডির পরিদর্শক সাইফুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছি। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। মেজর আলামত থানা পুলিশ রাতেই সংগ্রহ করেছে।’
স্থানীয় দোকানিরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন স্বামীবাগ মুন্সিরটেক জামে মসজিদের পাশের গলিতে রাত পৌনে ৮টার দিকে ২০-২৫ জন লোক আসে। তাদের অনেকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তারা এসে দোকানপাট বন্ধ করতে বলেই এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। গুলির শব্দে আতঙ্কে মানুষ ছোটাছুটি করতে থাকে। এ সময় গুলিতে কয়েকজন আহত হন। আহতরা হলেন চা-দোকানি আলমগীর, আশা আক্তার ও সিয়াম। অন্যদিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে ঢাকা মহানগর বিএনপির (দক্ষিণ) সদস্য ওমর নবী বাবুকে।
স্থানীয়রা বলেন, রবিবার বিকেলে গে-ারিয়ার রেললাইনসংলগ্ন করাতিটোলা এলাকা থেকে রাকিব, বিল্লাল ও রিফাত নামে তিন তরুণকে ‘মাদক বিক্রির সময়’ আটক করেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি। পরে তাদের বিএনপির স্থানীয় কর্মী মনির হোসেনের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কার্যালয়ে ওই তিন তরুণকে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ ডেকে তাদের ধরিয়ে দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরই ২০-২৫ জন তরুণ এসে গুলি ছোড়া শুরু করে। এ সময় মনিরের কার্যালয় এবং আশপাশের দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়। হামলার সময় কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে যায়।
পুলিশের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, মাদক নিয়ে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে ৪০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মনির হোসেন ও তার ভাগনে রাসেল মাদক ব্যবসায়ী ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ‘অটো সজলের’ লোকজনকে মারধর করেন। মনির হোসেনও তার কাছে থাকা একটি অবৈধ পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েছেন বলছে পুলিশ।
গে-ান্ডারিয়ার স্বামীবাগ, করাতিটোলা ও মুন্সিরটেক এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, ওই এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটেছে ব্যাপকভাবে। মাদক নিয়ে প্রায়ই মারামারির ঘটনা ঘটে। মাদকসেবীরা ছিনতাইসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত।