গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা গ্রামে মালচিং পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন বিজলী জাতের মরিচ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন কৃষক আয়ুব আলী। ২৬ শতাংশ জমিতে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ করে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করেছেন তিনি। ক্ষেতে এখনও প্রচুর মরিচ থাকায় সামনে আরও ভালো আয়ের আশা করছেন এই কৃষক।
গোবরা গ্রামে আয়ুব আলীর মরিচ খেতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির পাশের উঁচু জমিতে সারি সারি মরিচ গাছ। প্রতিটি গাছে ঝুলছে লাল-সবুজ মরিচ। পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষক আয়ুব আলী।
আয়ুব আলী বলেন, বর্ষাকালে সাধারণত মরিচের দাম ভালো থাকে। এ সময় বাজারে মরিচের চাহিদাও বেশি থাকে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভালো দামে মরিচ বিক্রির আশায় তিনি গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষের উদ্যোগ নেন। মে মাসের প্রথম দিকে বাড়ির পাশের উঁচু ২৬ শতাংশ জমিতে বিজলী জাতের মরিচের চারা রোপণ করেন।
তিনি বলেন, এ মৌসুমে প্রতি কেজি মরিচ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি হয়েছে। এখনও গাছে প্রচুর মরিচ রয়েছে। সেগুলো বিক্রি করে আরও আয় হবে বলে তিনি আশা করছেন।
মালচিং পদ্ধতির সুবিধা সম্পর্কে আয়ুব আলী বলেন, প্রথমে জমি ভালোভাবে চাষ করে জৈব সার প্রয়োগের মাধ্যমে বেড তৈরি করা হয়। এরপর প্রতিটি বেডে মালচিং পেপার (পলিথিন) বিছিয়ে নির্দিষ্ট দূরত্বে ছিদ্র করে সেখানে মরিচের চারা রোপণ করা হয়। এতে অতিরিক্ত তাপ ও বৃষ্টির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে গাছ অনেকটা সুরক্ষা পায়। পাশাপাশি আগাছা দমন, মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা ও সারের অপচয় কমাতে সহায়তা করে মালচিং পেপার। ফলে সেচও তুলনামূলক কম দিতে হয় এবং ফলন ভালো পাওয়া যায়।
তার প্রতিবেশী কৃষক কাইয়ুম মিয়া বলেন, আয়ুব আলীর মরিচের ফলন খুবই ভালো হয়েছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় মরিচ চাষে লাভ বেশি। আগামী বছর তিনিও নিজের জমিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষ করতে চান।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাফরোজা আক্তার বলেন, গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষ অত্যন্ত লাভজনক। পরিবেশবান্ধব মালচিং পেপার ব্যবহারের ফলে এ পদ্ধতিতে মরিচ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। মরিচ চাষে কৃষকদের পরামর্শ ও সহায়তা অব্যাহত রেখেছে সদর উপজেলা কৃষি অফিস।
তিনি জানান, চলতি মৌসুমে সদর উপজেলায় প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২ হেক্টর বেশি। আয়ুব আলী ২৬ শতাংশ জমিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষ করে ভালো দাম পেয়েছেন। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে এ জমি থেকে তার আরও প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা লাভ হতে পারে।
মালচিং পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষে আয়ুব আলীর সাফল্য স্থানীয় কৃষকদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তার সফলতা দেখে অন্য কৃষকরাও এ পদ্ধতিতে মরিচ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।
বাগাতিপাড়ায় লেবুর রাজ্য, সবুজ বাগানেই বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য