ঈদুল ফিতরের আগে বেড়ে যাওয়া গরুর মাংসের দাম এখনো কমেনি। তবে খানিকটা কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। এছাড়া কিছু কিছু সবজির দাম কমার কারণে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে নিত্যপণ্যের বাজারে।
গতকাল ঢাকার খুচরা বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮২০ থেকে ৮৫০ টাকার মধ্যে। ঈদুল ফিতরের আগেই এই দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল। সে সময় ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া গরুর মাংসের দাম ৮০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ উপলক্ষে সারা দেশে গরুর মাংসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে মাংসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
গরুর মাংসের দাম না কমলেও কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০ থেকে ২১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। যা ঈদের আগ মুহূর্তে ২২০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ব্রয়লার মুরগির দাম খানিকটা কমলেও বেড়েছে সোনালি মুরগির দাম। প্রতিকেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজি দরে। যা ঈদের আগে ছিল ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকার মধ্যে।
তবে ফার্মের ডিমের দাম আরও খানিকটা কমেছে। প্রতি ডজন ডিম বাজারভেদে ১০৫ টাকা থেকে ১১০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। যা ছুটির আগে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের মধ্যে সোনালি মুরগির ব্যাপক চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় দাম বেড়েছে। অন্যদিকে ব্রয়লারের সরবরাহ কমে গেলেও চাহিদা কম থাকায় দাম কমেছে।
বাড্ডার মুরগি বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের কারণে ঢাকায় বেশিরভাগ দোকানপাটই বন্ধ ছিল। কিন্তু সোনালি মুরগির বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়। সে অনুযায়ী সরবরাহ কম ছিল। যে কারণে দাম বেড়েছে সোনালি মুরগির। একই সময়ে ব্রয়লারের চাহিদা কিছুটা কমে গেছে।
এদিকে ঈদের ছুটিতে ঢাকার পাড়া-মহল্লার বেশিরভাগ দোকানগুলো বন্ধ থাকার প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের বাজারে। এর ফলে সামান্য বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। ঈদের আগে প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ৪০ টাকার মধ্যে। সে হিসেবে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে অন্তত ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের সময়ে সরবরাহ কম থাকার কারণেই পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।
এছাড়া সবজির বাজারে কিছু কিছু পণ্যের দাম আগের মতোই থাকলেও বেড়েছে কোনো কোনোটির। এর মধ্যে ছুটির আগে প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৯০ টাকায়। যা এখন মান ও জাতভেদে ৭০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি, বাঁধাকপির দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ছুটির আগে প্রতিকেজি শসার দাম ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যা এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
একইভাবে কিছুটা বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে টমেটো। ৩৫ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হওয়া টমেটো এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়া প্রতিকেজি শিম ৪৫ থেকে ৬০ টাকা, ছোট আকারের প্রতিটি মিষ্টিকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা, গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ধুন্দল, ঝিঙ্গা চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচা মরিচের দাম একেক দোকানে একেক রকম দামে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা দোকানগুলোতে ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ।
ক্রেতাদের অভিযোগ, ছুটির পর অল্প কিছু দোকানপাট খোলা রয়েছে। যে কারণে বিক্রেতারা সবকিছুর দাম বাড়িয়ে বাড়িয়ে নিচ্ছে। এ কারণে বেশিরভাগ সবজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ছুটির মধ্যে সরবরাহ কিছুটা কম থাকার কারণে দামও বেড়েছে। এছাড়া উৎসবের কারণে ছুটির মধ্যে পরিবহনের ভাড়াও বেশি গুনতে হচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে এসব পণ্যের দামে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে এলে সবকিছুর দাম আবারও কমে আসবে বলে জানান বিক্রেতারা।
