প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এআই-এর শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশে যেখানে প্রশিক্ষিত শিক্ষক ও সম্পদের ঘাটতি রয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে শিক্ষকদের জন্য ট্যাবলেট ও কম্পিউটার সরবরাহ, ডিজিটাল কারিকুলাম প্রণয়ন এবং মাল্টিমিডিয়া-সমৃদ্ধ শ্রেণিকক্ষ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।
এজন্য বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে উন্নত বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডা. জুবাইদা রহমান।
প্রযুক্তির মাধ্যমে শহর ও গ্রামের বৈষম্য কমানোর পাশাপাশি শিশুদের জন্য নিরাপদ ও নৈতিক ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে অনুষ্ঠিত ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিটে’ অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবা শিশুদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে।
ডা. জুবাইদা রহমান জানান, একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার শিশুদের ওপর। আজকের শিক্ষা ও মূল্যবোধই আগামী দিনের জাতি গঠনের ভিত্তি স্থাপন করে। তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অগ্রসরমান রাষ্ট্র গঠনে নতুন সরকার কাজ করছে।
তিনি জানান, সরকারের গৃহীত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘ফার্মার্স কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যা শিশুদের নিরাপদ ও সুষ্ঠু পরিবেশে বেড়ে উঠতে সহায়ক।
নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ঐতিহ্য বহন করে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
এছাড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশের ফলে লক্ষ লক্ষ নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা পরিবার ও শিশুদের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ডা. জুবাইদা রহমান আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বেসরকারি খাত ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলা, দক্ষ শিক্ষক তৈরি এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি সহনশীল, সহমর্মী ও ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব।
হোয়াইট হাউসের উদ্যোগে দুদিনব্যাপী এই শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরে দুদিনব্যাপী সম্মেলনে বিশ্বের ৪৫টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের স্ত্রী, ফার্স্ট লেডি ও ফার্স্ট জেন্টেলম্যান এবং সমমর্যাদার নেতাদের সঙ্গে যোগ দেন ডা. জুবাইদা রহমান।
সম্মেলনের উদ্বোধন করে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, বিশ্ব এখন দ্রুত পরিবর্তনশীল। এখানে শিশুদের সফল হওয়ার জন্য যেসব দক্ষতা প্রয়োজন, তার ব্যবস্থা করতে আজ থেকেই একযোগে সবাইকে কাজ করতে হবে।
আন্তর্জাতিক এই শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তিনি কীভাবে তার কাজের পরিধিকে প্রসারিত করে বৈশ্বিক বিষয়গুলোকেও এরইমধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর জোর দেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, তিনি এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন যখন বিপুল জনসমর্থন নিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সদ্য-নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার যাত্রা শুরু করেছে। যে সরকারের মূল লক্ষ্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রগতিশীল জাতি বিনির্মাণ করা।
একজন চিকিৎসক হিসেবে শিশুদের জন্য মানসম্মত ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ও সুরভীর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার মাধ্যমে শিক্ষা, যুব উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণে কাজ করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির উপপ্রেস সচিব ও সহকারী প্রেস সচিব নিয়োগ
সাময়িক নয়, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি চায় ইরান