অপচয় করা মুমিনের গুণ নয়

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২:০১ এএম

মানুষের জীবন পরিচালনায় সংযম একটি মৌলিক নীতি। ইসলাম এ সংযমের শিক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করেছে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিমিতি বজায় রাখা এবং আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের যথাযথ ব্যবহার করা একজন মুমিনের দায়িত্ব। অথচ অনেক সময় অজ্ঞতা, অসচেতনতা কিংবা ভোগের প্রবণতায় মানুষ প্রয়োজনের সীমা অতিক্রম করে অপচয়ের পথে হাঁটে। এতে ব্যক্তি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি সমাজেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কোরআন ও হাদিসে অপচয়ের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে এবং সম্পদের সঠিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। তাই মুমিনের জন্য অপচয় থেকে বিরত থাকা শুধু নৈতিক দায়িত্বই নয়, বরং আখিরাতে মুক্তিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

অপচয় করা মুমিনের গুণ নয়। কোরআনে অপচয়কারীকে বলা হয়েছে শয়তানের ভাই। ইরশাদ হয়েছে, ‘আত্মীয়কে তার প্রাপ্য দিয়ে দাও এবং মিসকিন ও মুসাফিরকেও; তবে কিছুতেই অপচয় করো না। সন্দেহ নেই, যারা অপচয় করে তারা শয়তানের ভাই। আর শয়তান তার প্রভুর প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।’ (সুরা বনি ইসরাইল ২৬-২৭)

জগতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর। তিনিই প্রকৃত মালিক, ইমানদার যে কেউ এ বিশ্বাস পোষণ করে। অল্প সময়ের জন্য তিনি কিছু সম্পদের বাহ্যিক মালিকানা আমাদের দান করেন। এ মালিকানা পরিবর্তনও হয়। এক হাত থেকে আরেক হাতে যায়। পথের ভিখারি রাজা হয়, রাজা সর্বস্ব হারিয়ে পথে নামে। চারপাশে এ বাস্তবতা দেখার পরও আমরা আমাদের মালিকানাধীন সম্পদকে প্রকৃত অর্থেই আমাদের সম্পদ মনে করে ভুল করি। এ থেকেই সৃষ্টি হয় অপচয়ের মানসিকতা, আমার টাকা আমি আমার ইচ্ছামতো খরচ করব, এতে কার কী বলার আছে! কিন্তু না, কোরআন মাজিদে আল্লাহতায়ালা সতর্ক করছেন আমাদের এ বলে, ‘তোমরা তাদের জন্য আল্লাহর সম্পদ থেকে দান করো, যা তিনি তোমাদের দান করেছেন।’ (সুরা নুর ৩৩)

নিজে কষ্ট করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে শারীরিক আরাম বিসর্জন দিয়ে অর্থ উপার্জন করলেই তাতে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যবহারের অধিকার সৃষ্টি হয় না। কাজেই এ সম্পদ একদিকে যেমন আল্লাহর নেয়ামত, আবার তা আমাদের হাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে আমানতও। তাই এর যথাযথ ব্যবহার না করলে, অযথা তা নষ্ট করলে, অপচয় করে বেড়ালে এ আমানতের খেয়ানতকারী হিসেবে জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে। তখন এ অপচয় শুধু ক্ষতিই ডেকে আনবে।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত