লিওনেল মেসি কিংবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো নেইমার জুনিয়রও চান ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্নে এসে একটি বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁয়ে দেখতে। কিন্তু বারবার বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে ইনজুরি। নেইমার যেন পূর্ণ ফিটনেস নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলে জায়গা করে নিতে পারেন, সেজন্য তার বর্তমান ক্লাব সান্তোস গ্রহণ করেছে এক বিশেষ সুরক্ষা পরিকল্পনা। যার নাম দেওয়া হয়েছে—‘প্রজেক্ট ওয়ার্ল্ড কাপ’।
গ্লোবো এস্পোর্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেইমারের পেশির ক্লান্তি দূর করতে এবং কোষের পুনর্গঠন ত্বরান্বিত করতে চলতি সপ্তাহে তার শরীরে ‘প্লাটিলেট-রিচ প্লাজমা’ (পিআরপি) থেরাপি দেওয়া হয়েছে। এই পদ্ধতিতে রোগীর নিজের রক্ত ব্যবহার করেই চোট নিরাময় করা হয়। এর ফলে গত কয়েকদিন ধরে রেই পেলের ট্রেনিং সেন্টারে বল নিয়ে অনুশীলনে দেখা যায়নি তাকে। দলের অন্য সদস্যরা যখন মাঠে ঘাম ঝরাচ্ছেন, নেইমার তখন ব্যস্ত জিম ও ইনডোর কন্ডিশনিং সেশনে।
ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নেইমার যদি ১০০ শতাংশ ফিট না হন, তবে তাকে দলে নেওয়া হবে না। এই কড়া বার্তার কারণেই সান্তোস কর্তৃপক্ষ এবং নেইমারের ব্যক্তিগত চিকিৎসক দল তাকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। কোচের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৮ মে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে নেইমারকে খুব হিসেব করে ম্যাচ খেলানো হবে। প্রয়োজনে লিগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও তাকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে।
ব্রাজিল দলের বর্তমান মহাতারকা ভিনিসিউস জুনিয়র তার প্রিয় আইডল নেইমারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, “নেইমার আমার আইডল ও বন্ধু। সে ফেরার জন্য জানপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন কোচ।” এদিকে নেইমারকে নিয়ে আশার আলোর মাঝেই বড় এক দুঃসংবাদ পেয়েছে ব্রাজিল। ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েছেন বার্সেলোনা তারকা রাফিনহা। অন্তত পাঁচ সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন তিনি, যা বিশ্বকাপের আগে আনচেলত্তির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
সম্প্রতি ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচে নেইমারের অনুপস্থিতিতে গ্যালারিতে ‘নেইমার নেইমার’ ধ্বনি তুলেছিলেন ভক্তরা। মাঠের ফুটবলে ব্রাজিলের ছন্দহীনতা সমর্থকদের এই দাবিকে আরও জোরালো করেছে। সান্তোসের লক্ষ্য এখন একটাই—আগামী ২ এপ্রিল রেমোর বিপক্ষে ম্যাচে নেইমারকে মাঠে ফিরিয়ে ধীরে ধীরে তাকে ছন্দে আনা। সব মিলিয়ে নেইমারের বিশ্বকাপ যাত্রা এখন সময়ের দাবি এবং সান্তোসের এই বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার ওপর নির্ভরশীল।
