বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে এশিয়ার শক্তিশালী মুদ্রাগুলোর মানে বড় ধরনের ধস নেমেছে। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও সিঙ্গাপুরের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে ক্রমাগত দুর্বল হয়ে পড়ছে। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরীয় মুদ্রা ‘উওন’-এর মান গত ১৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসায় এশীয় অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) লেনদেনের শুরুতেই দক্ষিণ কোরীয় উওনের মান মার্কিন ডলারের বিপরীতে আরও কমেছে। দিনের শুরুতে প্রতি ডলারের বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ১,৫১৫.২ উওন, যা আগের সেশনের তুলনায় ৬.৩ উওন কম। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক দিন ধরেই উওনের মান ১,৫০০-এর মনস্তাত্ত্বিক সীমার আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছিল। তবে গত ২৩ মার্চ এটি ১,৫১৭.৩ উওনে নেমে যায়, যা গত ১৭ বছরের ইতিহাসে মুদ্রাস্ফীতির পর সর্বনিম্ন স্তর।
এদিকে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের বাজারেও চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। আজ সকালে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় হার ছিল ১৫৯.৮৪। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির তুলনায় জাপানি মুদ্রার মান প্রায় ২.৪৬ শতাংশ কমেছে। ইয়েনের এই ধারাবাহিক পতন জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজারেও বিরূপ প্রভাব ফেলছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এশিয়ায় স্থিতিশীল হিসেবে পরিচিত সিঙ্গাপুরি ডলারের মানও ডলারের দাপটে কিছুটা ম্লান হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে সিঙ্গাপুরি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১.২৬, যা বর্তমানে বেড়ে ১.২৯-এ দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, ডলারের বিপরীতে সিঙ্গাপুরি মুদ্রার শক্তিও আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিশ্বজুড়ে ডলারের একক আধিপত্য এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এশিয়ার দেশগুলো তাদের মুদ্রার মান ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। মুদ্রার এই অবমূল্যায়নের ফলে এসব দেশে আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
