নীলফামারীর কিশোরগীঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে যোগদান করেন লাক্স সুন্দরী তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া। যোগদানের পর উপজেলার বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়িত রেখেছিলেন। তিনি যোগদান করার প্রায় চার মাস পরেই তাকে বদলি করা হয়। সেখানে তার পরবর্তী কর্মস্থল ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ন্যস্থ করা হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেন কিশোরীগঞ্জ উপজেলা উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা মুকুল ইসলাম। এ রআগে রবিবার (২৯ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আমিনুর ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি জানানো হয়।
তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি এবং কুমুদিনী সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে। ২০১০ সালের চ্যানেল আই-লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সেরা দশে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি।
৩৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে গেজেটপ্রাপ্ত হন এই লাক্স সুন্দরী সোহানিয়া। ২০১৯ সালের ২০ মার্চ প্রকাশিত সরকারি প্রজ্ঞাপনে তাকে ক্যাডার হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।
তিনি ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে যোগদান করেন। সোহানিয়া যোগদান করার পর বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়িত রেখেছিলেন।
স্থানীয় বৃদ্ধাশ্রমে সহায়তা, বাল্যবিবাহ বন্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণাসহ বিভিন্ন কাজ করে সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি। অল্প সময়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বালু পাচার রোধ, মাদক নির্মূলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
হঠাৎ জনপ্রিয় এবং কর্মঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া হঠাৎ বদলি হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে হতাশা ও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কাজের মাধ্যমে মাত্র চার মাসে এলাকার শত শত মানুষের মন জয় করেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ হোসেন বলেন, তিনি আমাদের উপজেলায় আসার পর বালু পাচার রোধসহ বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ড করেছেন। তিনি আসার পর এলাকায় কোনও বাল্যবিবাহ হয়নি।
নিরাপদ বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দা সাজিউর রহমান সাজু বলেন, ইউএনও মহোদয় যোগদান করার পর থেকে তিনি বিভিন্নভাবে আমাদের আশ্রমে সহায়তা করেছেন। প্রতিদিন বৃদ্ধাশ্রমের সকলের খোঁজখবর রাখতেন। শীতে কম্বল, পুরো রমজান মাসে ইফতার ও ঈদের উপহার পাঠিয়েছেন আশ্রমের মানুষদের জন্য। তিনি আমাদের এলাকার জন্য নানাবিধ পরিকল্পনা করেছিলেন তবে তার হঠাৎ করে বদলী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
রাজিয়া সুলতানা আরেক বাসিন্দা বলেন, আমার মেয়ে বিরল রোগে আক্রান্ত, তিনি আসার পরে আমাকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন। আমি খুব গরীব মানুষ তার সহায়তা পেয়ে আমি উপকৃত হয়েছিলাম। আমার মতো অনেকে তিনি সহায়তা করতেন। তিনি থাকলে আরও অনেকে সহায়তা পেত।
