এবার ঈদে মুক্তি পাওয়া রায়হান রাফী পরিচালিত ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমায় ‘রেশমা পাখি’ চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসায় ভাসছেন নাজিফা তুষি। সীমিত সংখ্যক হলে মুক্তি পেলেও মুখে মুখে গল্পের প্রসার ছড়িয়ে পড়ায় দর্শকপ্রিয়তা বেড়েছে ছবিটির। সাহসী গল্প এবং নাজিফার মুগ্ধকর অভিনয় সিনেমায় এক বিশেষ মাত্রা দিয়েছে। ‘প্রেশার কুকার’ একটি নারীকেন্দ্রিক গল্পের সিনেমা যেখানে তুষি একজন ‘স্পা গার্ল’ চরিত্রে রহস্যময় নারীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। সিনেমায় অতীত ও বর্তমান, গ্রাম ও শহর, এবং নৈতিকতা ও অর্থের দ্বন্দ্বে জর্জরিত একটি মেয়ের সংগ্রাম ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যেখানে রেশমা চরিত্রটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্পা গার্লের চরিত্র নিয়ে নাজিফা তুষি বলেন, ‘সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল নারীকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি। পুরো গল্পটি রেশমার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলা হয়েছে, যেখানে সমাজের বিভিন্ন স্তর উঠে এসেছে।’
রেশমা চরিত্রকে বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরতে ঢাকার বিভিন্ন সেলুনে যান নাজিফা তুষি। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি চরিত্রের নিজস্ব যাত্রা থাকে। চরিত্রকে বাস্তব দেখাতে বিভিন্ন সেলুনে গিয়ে মাসাজের অভিজ্ঞতা নিই এবং নিজের পরিবার-বন্ধুদের ওপর সেটি অনুশীলন করি যাতে ক্যামেরার সামনে তা স্বাভাবিক লাগে।’
সিনেমাতে রেশমা থেকে ‘পাখি’ হয়ে ওঠার জটিল রূপান্তর দর্শক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তুষি জানান, রেশমা একটি সাধারণ মেয়ে, যাকে সমাজ অবহেলা করে। ধীরে ধীরে যখন সে পাখি হয়ে ওঠে, তখন সেই পরিচয় ঝেড়ে ফেলে জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেয়। পাখি মূলত উচ্চবিত্ত একটি চরিত্র, যেখানে সবকিছুই অর্থ আর ক্ষমতাকে ঘিরে আবর্তিত।
এই সিনেমার প্রতি নিজের আবেগ প্রকাশ করে তুষি বলেন, ‘দর্শক যদি এই সিনেমার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে, তাহলে সেটাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি চাইলে সহজ কোনো গল্প বা হিট সিনেমা বেছে নিতে পারতাম। কিন্তু আমি এই চ্যালেঞ্জ নিয়েছি, কারণ এই গল্পটা বলা প্রয়োজন ছিল। এই ঝুঁকি নেওয়া জরুরি ছিল এবং সেটি সার্থক হয়েছে।’
‘প্রেশার কুকার’ সিনেমার শিল্পী ও কলাকুশলীদের প্রশংসা করলেন নন্দিত অভিনেত্রী অপি করিম। এক ফেসবুক পোস্টে ছবিটির নির্মাণ, গল্প ও অভিনয় নিয়ে খোলামেলা মতামত জানিয়েছেন তিনি। অপি করিম জানান, ঈদের ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি মাত্র একটি সিনেমা দেখার সুযোগ পেয়েছেন, আর সেটিই হলো প্রেশার কুকার। তার মতে, অযথা নাচ-গান বা মারামারি ছাড়াও শক্তিশালী গল্প দিয়ে দর্শককে ধরে রাখা যায় এই সিনেমা তারই প্রমাণ।
বিশেষ করে নাজিফা তুষির অভিনয়ে এক ধরনের তীব্রতা রয়েছে, যা গল্পকে আরও গভীর করে তোলে। পাশাপাশি রিজভী রিজু এবং ফজলুর রহমান বাবুর অভিনয়ও দর্শকের মনে দাগ কাটবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শুধু অভিনয় নয়, ছবিটির কারিগরি দিক নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন অপি করিম। তার মতে, সিনেমাটোগ্রাফি, সম্পাদনা, সাউন্ড, সেট, কস্টিউম, মেকআপ ও লোকেশন সব ক্ষেত্রেই যতেœর ছাপ স্পষ্ট। তবে কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন তিনি; বিশেষ করে কিছু দৃশ্য সংক্ষিপ্ত করা বা কয়েকটি চরিত্র বাদ দিলে গল্পটি আরও সংহত হতে পারত বলে মনে করেন। সব মিলিয়ে, গল্প নির্ভর এমন একটি সিনেমা নির্মাণে সাহস দেখানোর জন্য নির্মাতা রায়হান রাফিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অপি করিম। ভবিষ্যতেও তার কাছ থেকে এমন ভিন্নধর্মী কাজের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
