তেল সংকটে নড়াইলে এক মোটরসাইকেল চালক রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন। গত ১০ দিন ধরে নিয়মিত গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে সাইকেল চালিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। উদ্ভাবক দুই ভাই পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। ফলে এখন আর তাদের পাম্পে তেল নেওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে না। এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, নড়াইলের তনা ইউনিয়নের রাধানগর বাজারের তরুণ ইলেকট্রিক মিস্ত্রি সোহেল শেখ ও জীবন শেখ আপন দুই ভাই। প্রায় ৪ বছর ধরে তারা বিভিন্ন ধরণের ইলেকট্রনিক্স মালামাল ও যন্ত্রপাতি মেরামত করেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে গ্যাসসিলিন্ডার থেকে পাইপ দিয়ে মোটরসাইকেলে মোডিফাইকৃত কার্বুরেটরের সঙ্গে সংযোগ দিয়ে সম্পূর্ণ গ্যাসনির্ভর করেছেন তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি। প্রাথমিক অবস্থায় বড় আকারের গ্যাস সিলিন্ডারের সাহায্যে মোটরসাইকেল চালালেও ছোট আকারের বহনযোগ্য সিলিন্ডার লাগানোর জন্য প্রস্তুতি শেষ করেছেন তারা।
উদ্ভাবক দুই ভাই সোহেল শেখ ও জীবন শেখ জানান, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে পাম্পে তেল নিতে নানা ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে যেমন তেল পাওয়া যাচ্ছে না আবার কয়েকদিন বন্ধ থাকছে। তেলের এই সংকটমুহুর্তে তারা দুই ভাই চিন্তা ভাবনা করে গ্যাসের সিলিন্ডার দিয়ে গাড়ি চালানো যায় কিনা চেষ্টা করে দেখেন। দুর্ঘটনা বা নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে গ্যাসসিলিন্ডার থেকে পাইপ দিয়ে মোটরসাইকেলে মোডিফাইকৃত কার্বুরেটরের সঙ্গে সংযোগ দেয়া হয়েছে। মোটর সাইকেলটি ভালোভাবে চলছে। সাইকেলের পিছনে গ্যাস সিলিন্ডার থাকায় দুজন বসতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে বড় সিলিন্ডারের পরিবর্তে ছোট আকৃতির সিলিন্ডার স্থাপনের কাজ চলছে।
উদ্ভাবক জীবন শেখ আরো জানান, গ্যাস সিলিন্ডারে চালানোর কারনে খরচ অর্ধেকে নেমে এসেছে। পেট্রোল ও ডিজেলের খরচের তুলনায় গ্যাস দিয়ে চালানো হলে অর্ধেক খরচ হবে। পরীক্ষামুলকভাবে চালানো হচ্ছে। সফল হলে গ্যাস দিয়েই তারা মোটর সাইকেলটি চালাবেন।
ইলেকট্রিক মিস্ত্রি দুই ভাইয়ের আবিষ্কার গ্যাসচালিত মোটরসাইকেল এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে। বিভিন্ন পেশার মানুষ গ্যাসচালিত এই মোটরসাইকেলটি দেখতে ভিড় করছেন।
ইতনা গ্রামের ওষুধ ব্যবসায়ী মো. জাবের আলী জানান, এতদিন জানতাম পাম্প থেকে নেওয়া গ্যাস দিয়ে যানবাহন চলে। কিন্তু রান্না করার জন্য ব্যবহৃত সিলিন্ডারে মোটরসাইকেল চলতে পারে তা জানতাম না। এই প্রযুক্তি যদি নিরাপদ হয় তাহলে বিহনযোগ্য ছোট আকৃতির সিলিন্ডার স্থাপনের মাধ্যমে গ্যাসে রূপান্তর করা যেতে পারে। এতে পেট্রোল-অকটেনের ঝামেলা থাকবে না এবং খরচ অনেকটা কমে আসবে।
রাধানগর বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ইলেকট্রিক মিস্ত্রি সোহেল ও জীবনের উদ্ভাবিত গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে মোটরসাইকেল চালানোর ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। খবরটি শুনে অনেকেই দেখতে আসছে। এই উদ্ভাবনটি নিরাপদ হলে বাজারের অনেক ব্যবসায়ী মোটরসাইকেলে গ্যাসে রূপান্তরিত করবে।
তবে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উদ্ধাবিত এই পদ্ধতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কিনা সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন।