৫ বছরে পাঁচ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেবে ব্র‍্যাক

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম

ব্র‍্যাক নিয়ে আগামী পাঁচ বছরের নানা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ। আজ বৃহস্পতিবার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। 

ফেসবুক পোস্টে ব্র‍্যাকের নির্বাহী পরিচালক বলেন, ৫৪ বছর আগে এই সংগঠনের জন্ম হয়েছিল একটি ভাঙা দেশে। আজ আমরা আবার একটি কঠিন সময়ে দাঁড়িয়ে। ব্র্যাক ৫৪তম বছরে পা রাখল। এই যাত্রার অংশ হওয়ায় আপনাদের প্রত্যেককে আন্তরিক অভিনন্দন। পাঁচ দশকেরও বেশি আগে এই পথচলার শুরু হয়েছিল সেই মানুষটির হাত ধরে, যিনি বিশ্বাস করতেন মানুষের ভেতরেই আছে পরিবর্তনের অদম্য শক্তি। আবেদ ভাইয়ের দেখানো সেই পথে, আজও আমরা মানুষের পাশে আছি- তাদের সম্ভাবনার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতে সমাধানের পথ তৈরি করে চলেছি।

বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই যাত্রা সম্ভব হয়েছে আপনাদের কঠোর পরিশ্রম, গভীর দায়বদ্ধতা এবং সাহসের মাধ্যমে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনাদের দক্ষতা, প্রতিশ্রুতি এবং উদ্যমই এগিয়ে নিয়েছে ব্র্যাকের প্রতিটি পরিকল্পনা, মাঠের প্রতিটি কাজ, যেকোনও নতুন উদ্যোগ। আমরা প্রায়ই বলি, ব্র্যাকের কাজ শুধু চাকরি নয়, ব্র্যাকের কাজ মানুষের ভালো করার একটি মাধ্যম। আপনারা পরম আন্তরিকতা, দায়বদ্ধতা এবং আত্মত্যাগ দিয়ে মানুষের সেবায় প্রাণ ঢেলে দিয়েছেন। আপনারাই ব্র্যাকের প্রাণ, শক্তি এবং সাহসের উৎস।

আসিফ সালেহ বলেন, পরিবর্তন তখনই আসে, যখন আমরা স্বপ্নকে কাজে লাগাই। আপনারা ব্র্যাকের solution ecosystem-এর বিস্তৃত কর্মকাণ্ডের চালিকা শক্তি। তাই তো আবেদ ভাই তার শেষ চিঠিতে লিখেছিলেন, 'ব্র্যাক কোনো একক ব্যক্তি নির্ভর প্রতিষ্ঠান নয়। আমি, আপনি, আমরা সবাই ব্র্যাক।'

আমরা এখন একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব সরাসরি আঘাত করছে আমাদের দেশের মানুষকে। একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধ যদি দীর্ঘ হয়, তাহলে আগামী দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি প্রায় ৩ শতাংশ কমে যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিটেন্স কমবে। রপ্তানি সংকটে পড়বে। শিপিং খরচ বাড়বে। জ্বালানি, খাদ্য ও নিত্যপণ্যের দাম উঠবে। আর এই চাপের সবচেয়ে বড় ভার বহন করবে সেই মানুষগুলো—যারা আগে থেকেই সবচেয়ে ভঙ্গুর অবস্থায় আছেন। কিন্তু এই মুহূর্তে আমি পেছনে তাকাতে চাই কারণ ইতিহাস আমাদের সাহস দেয়।

তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে, স্বাধীনতার পরপরই, যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশে ব্র্যাকের জন্ম হয়েছিল। লাখো মানুষ গৃহহীন, নিঃস্ব, ভবিষ্যৎহীন। সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে আবেদ ভাই এবং তার সহযাত্রীরা বলেছিলেন - এই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এখনই সময়। তখন কোনো রোডম্যাপ ছিল না, নিশ্চিত অর্থায়ন ছিল না, ছিল শুধু দায়বদ্ধতা এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তি। আর ২০২০ সালে, যখন কোভিডের থাবায় পুরো পৃথিবী থমকে গেল, যখন স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ল, কর্মসংস্থান উবে গেল, সবচেয়ে দরিদ্র মানুষটি আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ল, তখনও ব্র্যাকের মাঠকর্মীরা ঘরে বসে থাকেননি। তারা সুরক্ষা নিয়ে মাঠে নেমেছেন, খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন, স্বাস্থ্যসেবা চালু রেখেছেন কারণ তারা জানতেন, সংকটের সময়ই ব্র্যাকের পরীক্ষা। আজকের সংকট ভিন্ন, কিন্তু দাবিটা একই - এগিয়ে আসার, থামার নয়।

তিনি আরও বলেন, সংগঠন হিসেবে আমাদের পথ হবে সংযমী, কিন্তু উদ্ভাবনমুখী। কমের মধ্যে আরও বেশি করার কৌশল আমরা রপ্ত করব। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাব, সম্পদ বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ব্যবহার করব। কিন্তু মানুষের জন্য সমাধান তৈরির গতি, সেটা আমরা থামতে দেব না। বরং এই মুহূর্তটাকে আমরা দেখব একটি সুযোগ হিসেবে, প্রমাণ করার সুযোগ যে, সংকটের সময়ই ব্র্যাক সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক। ইতিহাস বলে যখন পরিস্থিতি সবচেয়ে কঠিন, তখনই ব্র্যাক সবচেয়ে জরুরি। এটাই আমাদের পরিচয়। এটাই আমাদের দায়িত্ব। আমাদের অগ্রাধিকার একই আছে - সেইসব মানুষের পাশে দাঁড়ানো যাদের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, যারা সবচেয়ে নিগৃহীত, সবচেয়ে উপেক্ষিত এবং সবার চাইতে পিছিয়ে। কারা তারা? সুন্দরবনের কালাবগির সেই গ্রাম, যেখানে জলবায়ুর আঘাতে প্রতিটি দিন নতুন করে লড়াই চলে। বরেন্দ্র অঞ্চলের পানিশূন্য জনপদ, যেখানে আদিবাসী পরিবারগুলো প্রতিটি ফোঁটা পানির জন্য সংগ্রাম করে। স্বপ্নসারথী কিশোরীরা, যাদের মর্যাদা আর অধিকারের লড়াই শুরু হয় নিজ ঘর থেকেই। শহরের হাজারো নিম্নবিত্ত তরুণ, যাদের স্বপ্ন আছে, কিন্তু সামনে অদৃশ্য দেয়াল। এই মানুষগুলোর জন্যই আমাদের নতুন কর্ম কৌশল।

বাংলাদেশের মানুষের সম্ভাবনা অপরিসীম- চাই শুধু সুযোগ। এই লক্ষ্য নিয়েই আমরা ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের জন্য ব্র্যাকের নতুন কৌশল তৈরি করেছি। আমরা চাই মানুষ যেন সম্মানের সঙ্গে আয় করতে পারে। শিশুরা যেন ভালো শিক্ষা পায়। কৃষকরা যেন জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। নারী ও তরুণরা যেন তাদের সম্ভাবনা পূর্ণ করতে পারে। উন্নয়নের সুযোগ যেন শহরের কেন্দ্রেই সীমিত না থেকে, নদীর চর, পাহাড়ি অঞ্চল, হাওর, উপকূল সব জায়গায় পৌঁছায়, বলেন তিনি। 

ফেসবুক পোস্টে আগামী পাঁচ বছরে এই পাঁচটি বিষয় বিশেষ গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে-

১. প্রান্তিক মানুষ সবার আগে। আমাদের সামাজিক কর্মসূচি, বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবন- সবকিছুর প্রথম প্রশ্ন হবে: এটা কি সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষটির কাছে পৌঁছাচ্ছে? চরের কৃষক, পাহাড়ের আদিবাসী পরিবার, শহরের বস্তির তরুণ- এরাই আমাদের কাজের কেন্দ্র, পরিধি নয়।
২. নারী ও তরুণরাই পরিবর্তনের চালিকাশক্তি। আমরা শুধু নারী ও তরুণদের জন্য কর্মসূচি পরিচালনা করব না- তাদের সিদ্ধান্তগ্রহণে, নেতৃত্বে এবং সমাধান তৈরিতে সক্রিয় অংশীদার হিসেবে দেখব। কারণ অভিজ্ঞতা বলে, যখন একজন নারী এগিয়ে যান, তখন পুরো পরিবার এগিয়ে যায়।
৩. সরকারি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করব, প্রতিস্থাপন করব না। ব্র্যাক সরকারের বিকল্প নয়- আমরা সরকারের পাশে থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা এবং স্থানীয় শাসনব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে চাই। আমাদের মডেল, আমাদের এবং আমাদের অভিজ্ঞতা জাতীয় নীতিতে সাহায্য করুক- এটাই আমাদের চেষ্টা হোক যাতে আরো অনেক মানুষের ভাগ্য বদলায়।
৪. কমিউনিটির সঙ্গে, কমিউনিটির জন্য। মানুষ সমস্যার ভুক্তভোগী নয়—তারা সমাধানের অংশীদার। আমরা কমিউনিটিকে শুধু সেবা দেব না, তাদের সাথে বসে সমস্যা বুঝব, একসাথে সমাধান তৈরি করব এবং তাদের হাতেই সেই সমাধানের মালিকানা তুলে দেব।
৫. একটি ব্র্যাক, একটি লক্ষ্য। উন্নয়ন কর্মসূচি, মাইক্রোফাইন্যান্স,  ব্র্যাক ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয়—আমরা একই পরিবারের অংশ। এই পাঁচ বছরে আমরা একে অপরের শক্তিকে কাজে লাগাব যাতে একজন মানুষ একটি দরজায় এসে পুরো ব্র্যাকের সহায়তা পান।

এর পাশাপাশি সাতটি ক্ষেত্রে মানুষের জন্য বাস্তব সমাধান গড়ে তোলায় প্রাধান্য দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

১. কাজের সুযোগ ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই আমাদের লক্ষ্য। এর মধ্যে থাকবে ৫ লাখ ৩০ হাজার তরুণের জন্য "বিজনেস-ইন-এ-বক্স"—যেখানে প্রশিক্ষণ, স্টার্টআপ মূলধন, বাজার সংযোগ এবং মেন্টরশিপ একসাথে পাওয়া যাবে। কৃষিতে আমরা ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য বীজ থেকে বাজার পর্যন্ত একটি সম্পূর্ণ ইকোসিস্টেম গড়ব। ডিজিটাল সেবায় তরুণদের যুক্ত করব। আর দক্ষ কর্মীদের জন্য অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, উপসাগরীয় দেশসহ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নৈতিক ও নিরাপদ অভিবাসনের পথ তৈরি করব ব্র্যাক প্রবাসবন্ধুর মাধ্যমে।

২. জীবনমুখী ও কার্যকর শিক্ষা– আজও অনেক শিশু প্রাথমিক স্কুল শেষ করেও ঠিকমতো পড়তে-লিখতে পারে না। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় শ্রেণির মাত্র এক-তৃতীয়াংশ শিশু ঠিকমতো পড়তে ও বুঝতে পারে। বিশ্বব্যাংকের হিসেব দেখায়, প্রাথমিক শেষ করার পরও প্রায় অর্ধেক শিশু মৌলিক পড়াশোনায় দক্ষ নয়। এই বাস্তবতা বদলাতে আমরা ৬ লাখ ২৫ হাজার শিশুর জন্য শিশু বিকাশ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করব। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৯ লাখ শিক্ষার্থীকে রিমেডিয়াল শিক্ষা দেওয়া হবে। ৩০টি ব্র্যাক একাডেমি স্কুল এবং ৮০টি ব্র্যাক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমে উদ্ভাবনী শিক্ষাপদ্ধতি পরীক্ষা ও সম্প্রসারণ করা হবে। মাদ্রাসা ও সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য একটি সেন্টার অব এক্সেলেন্স গড়ে তোলা হবে, যাতে মানসম্মত শিক্ষা প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছায়।

৩. আর্থিক নিরাপত্তা- ২ কোটি মানুষের কাছে অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক সেবা পৌঁছানো এবং শুধু ঋণ নয়—কৃষি মৌসুমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ লোন, জলবায়ু বিমা, জরুরি পুনরুদ্ধার তহবিল এবং গৃহঋণ থেকে শুরু করে শিক্ষা ঋণ পর্যন্ত বিভিন্ন সেবা একসাথে পাওয়া যাবে। এআই-ভিত্তিক ক্রেডিট স্কোরিং ব্যবহার করে সেইসব নারী ও তরুণদের বড় ঋণের সুযোগ করে দেওয়া হবে, যাদের আগে কোনো আর্থিক ইতিহাস ছিল না। নদীর চর, হাওর, উপকূল এবং শহরের বস্তিতে ২০০টি নতুন আর্থিক সেবাকেন্দ্র খোলা হবে।

৪. দারিদ্র্য থেকে মুক্তি– প্রতি বছর ৭০ হাজার পরিবারকে অতি দারিদ্র্য থেকে উত্তরণ ঘটানো হবে—এর মধ্যে ৫০ হাজার গ্রামীণ এবং ২০ হাজার শহুরে পরিবার। শহরে আমাদের উপস্থিতি ১৭ থেকে ৩০টি জেলায় বিস্তৃত করা হবে, কারণ দারিদ্র্য এখন আর শুধু গ্রামের সমস্যা নয়। গ্র্যাজুয়েশন অ্যাপ্রোচের আওতায় প্রতিটি পরিবারকে দক্ষতা উন্নয়ন, আয়মূলক সম্পদ, আর্থিক সেবা এবং সামাজিক সুরক্ষার একটি সমন্বিত প্যাকেজ দেওয়া হবে—যাতে তারা একবার উঠলে আর পিছলে না পড়ে।

৫. জলবায়ু সহনশীলতা– ১২ লাখ ৫০ হাজার ক্ষুদ্র কৃষকের কাছে জলবায়ু-সহনশীল সমাধান পৌঁছানো হবে। বাংলাদেশের পাঁচটি জলবায়ু হটস্পটে—দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল, বরেন্দ্র অঞ্চল, হাওর, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং চরাঞ্চলে—সাতটি আঞ্চলিক অ্যাডাপটেশন ক্লিনিক স্থাপন করা হবে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি উপজেলায় পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিউনিটিভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে। মাইক্রোফাইন্যান্স শাখার মাধ্যমে মোবাইল অ্যাডাপটেশন ক্লিনিক চালু করা হবে, যেখানে কৃষকরা একই জায়গায় আবহাওয়া পূর্বাভাস, বীমা এবং কৃষি পরামর্শ পাবেন।

৬. নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা– ব্র্যাক সবসময় বিশ্বাস করেছে, যখন নারীরা এগিয়ে যায়, তখন পরিবার এগিয়ে যায়, সমাজ এগিয়ে যায়। ৩৩টি জেলার ২৬৮টি উপজেলায় ৬৫ হাজার কিশোরীকে স্বপ্নসারথী কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে—যেখানে জীবনদক্ষতা, উচ্চশিক্ষা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ একসাথে নিশ্চিত করা হবে। ২৬৮টি লিগ্যাল এইড ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রতি বছর ২৫ হাজার নারীকে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। ৬৫০টি কর্মক্ষেত্র এবং ৭৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে। শহর ও শিল্পাঞ্চলে নারীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে কমিউনিটিভিত্তিক ডেকেয়ার সেন্টার চালু করা হবে—যাতে একজন মা নিশ্চিন্তে কাজে যেতে পারেন।

৭. সুস্বাস্থ্য ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা– গ্রামীণ, প্রত্যন্ত এবং শহরের নিম্নবিত্ত জনগোষ্ঠীর কাছে মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো আমাদের লক্ষ্য। কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের সরকারি প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করা হবে, যাতে মানুষ দোরগোড়ায় সেবা পান। এআই-সহায়তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাতৃস্বাস্থ্য আল্ট্রাসাউন্ড এবং অসংক্রামক রোগ শনাক্তকরণ সহজ ও দ্রুত করা হবে। একটি ডিজিটাল স্বাস্থ্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হবে, যেখানে রোগীর তথ্য, রেফারেল এবং রোগ পূর্বাভাস একটি সমন্বিত ব্যবস্থায় পরিচালিত হবে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ দল ও তহবিল প্রস্তুত রাখা হবে।

ব্র্যাকের ডিএনএ হলো সমন্বিত উন্নয়ন—প্রোগ্রাম, মাইক্রোফাইন্যান্স বা এন্টারপ্রাইজের আলাদা দৃষ্টিকোণ নয়, মানুষের সমস্যাকে সামগ্রিকভাবে বোঝা এবং আমাদের পেশাগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সহমর্মিতার সঙ্গে সেই সমস্যার সমাধান করা। যখন একজন মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মী ঋণের পেছনে একটি পরিবারের সামাজিক বাধা পেরোনোর গল্প দেখেন, একজন স্বাস্থ্যকর্মী শুধু রোগ নয় মানুষের ভেতরের শঙ্কা বোঝেন, আর একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীর ফলাফল নয় তার পথচলাটাও দেখেন, তখনই ব্র্যাক আলাদা হয়ে ওঠে।

এই কারণেই আমাদের কৌশলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সহমর্মিতা—আমরা কী করব তা আমাদের কৌশল বলে দেয়, কিন্তু আমরা কিভাবে করব, তার উত্তর: সহমর্মিতা। সহমর্মিতার সঙ্গে দেওয়া সেবা তৈরি করে আস্থা ও ভরসার জায়গা। সহানুভূতি সমস্যার দিকে তাকাতে শেখায়, কিন্তু সহমর্মিতা সমাধানের পথে হাঁটতে সাহস দেয়, দায়িত্ব নিতে শেখায়, মমত্ব নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে শেখায়। দেশের প্রয়োজনে আমরা সহমর্মিতা এবং সাহস নিয়ে এগিয়ে যাব বলেও শেষে তিনি বলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত