ইন্টার মায়ামির জন্য শুরু হতে যাচ্ছে এক নতুন অধ্যায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল রোববার ভোরে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা) অস্ট্রিন এফসির বিপক্ষে নিজেদের নতুন হোম গ্রাউন্ড ‘ন্যু স্টেডিয়াম’-এ অভিষেক হতে যাচ্ছে ক্লাবটির। ঐতিহাসিক এই ম্যাচের আগে নতুন ভেন্যুতে প্রথমবার অনুশীলনে নেমে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসি।
২৬,৭০০ দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই অত্যাধুনিক স্টেডিয়ামটি দেখে মুগ্ধ মেসি একে ‘অবিশ্বাস্য’ ও ‘স্পেক্টাকুলার’ বলে অভিহিত করেছেন।
যা বললেন লিওনেল মেসি
নতুন এই ঘরে প্রথমবার অনুশীলনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে মেসি বলেন, "সত্যি বলতে, আমাদের এই নতুন ঘর দেখে আমি অভিভূত। স্টেডিয়ামটি অবিশ্বাস্য সুন্দর হয়েছে। এখানে এসে নিজের চোখে এটি দেখা সত্যিই এক বিশেষ অনুভূতি। আমরা অনেকদিন ধরেই মুখিয়ে ছিলাম কবে এখানে আমাদের অভিষেক হবে, কবে অফিশিয়াল ম্যাচ খেলতে নামব। অবশেষে সেই মুহূর্তটি এসেছে।"
ক্লাবের নিজস্ব ভেন্যুর গুরুত্ব তুলে ধরে আর্জেন্টাইন এই খুদে জাদুকর আরও যোগ করেন, "এত অল্প সময়ের মধ্যে নিজেদের একটি ব্যক্তিগত স্টেডিয়াম তৈরি করাটা সত্যিই পাগলামির মতো (পজিটিভ অর্থে)। এটি ক্লাবের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন হতে যাচ্ছে। সমর্থক থেকে শুরু করে আমাদের খেলোয়াড়—সবার জন্যই এটি উপভোগ করার মতো একটি মুহূর্ত। আমরাই প্রথম এই মাঠে খেলতে নামছি, এটি ভেবেই ভালো লাগছে। দিনটি খুব সুন্দর হবে।"
কিংবদন্তিকে অনন্য সম্মান- লিও মেসি স্ট্যান্ড
সাধারণত খেলোয়াড়রা অবসর নেওয়ার পর তাদের নামে গ্যালারি বা স্ট্যান্ডের নামকরণ করা হয়। কিন্তু ইন্টার মায়ামি এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সক্রিয় খেলোয়াড় থাকা অবস্থাতেই স্টেডিয়ামের একটি গ্যালারির নাম রাখা হয়েছে ‘লিও মেসি স্ট্যান্ড’। গোলাপি ব্যাকগ্রাউন্ডে সাদা অক্ষরে লেখা মেসির নাম এবং তার চিরচেনা ‘১০’ নম্বর সম্বলিত সাইনবোর্ডগুলো গ্যালারিকে এক অনন্য রূপ দিয়েছে। ২০২৩ সালে যোগ দেওয়ার পর থেকে মায়ামিকে লিগস কাপ (২০২৩), সাপোর্টার্স শিল্ড (২০২৪) এবং এমএলএস কাপ (২০২৫) জেতানোয় মেসির এই অবদানকে এভাবেই স্বীকৃতি দিল ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
অভিষেক ম্যাচের অপেক্ষা
অস্ট্রিন এফসির বিপক্ষে ম্যাচটি কেবল একটি লিগ ম্যাচ নয়, বরং ইন্টার মায়ামির বিবর্তনের একটি মাইলফলক। স্টেডিয়ামটির ভিআইপি এরিয়া এবং এক্সক্লুসিভ স্যুইটগুলো ইতোমধ্যে ফুটবল বিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন অপেক্ষা শুধু বাঁশি বাজার, যখন মেসির পায়ে ন্যু স্টেডিয়ামের ঘাসে প্রথম অফিশিয়াল বল গড়াবে।
ছয় বছরের দীর্ঘ লড়াই ও ওডিসি
এই স্থায়ী ঠিকানার জন্য ইন্টার মায়ামিকে পাড়ি দিতে হয়েছে এক দীর্ঘ কণ্টকাকীর্ণ পথ। ২০১৮ সালে ডেভিড বেকহ্যাম ও মাস ভ্রাতৃদ্বয় যখন ক্লাবটি প্রতিষ্ঠা করেন, তখন থেকেই তারা একটি নিজস্ব মাঠের জন্য লড়াই করছিলেন। মায়ামি পোর্টের কাছে জমি পাওয়া থেকে শুরু করে লিটল হাভানা—একাধিক জায়গায় পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর ২০২২ সালে একটি গলফ কোর্সের জায়গায় ৯৯ বছরের লিজ পায় ক্লাবটি। প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই স্টেডিয়ামটি অবশেষে মায়ামির সেই দীর্ঘ যাযাবর জীবনের অবসান ঘটালো।
মেসি-পরবর্তী আয়ের নতুন উৎস
মেসি ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর ক্লাবের আয় কীভাবে বজায় থাকবে, সেই দুশ্চিন্তা দূর করতেই এই মেগা প্রজেক্ট। টিকেট বিক্রি এবং চেইস স্টেডিয়ামের চেয়েও বড় মেগা-স্টোর থেকে জার্সি বিক্রির পাশাপাশি এই ভেন্যুটি ব্যবহৃত হবে কনসার্ট ও বড় বড় শো-এর জন্য। আগামী ২৮ জুন মেক্সিকান গায়ক কারিন লিওন-এর কনসার্টের মাধ্যমে এখানে বিনোদন জগতের অভিষেক হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই ব্রাজিলিয়ান ডিজিটাল ব্যাংক 'ন্যুব্যাংক' (Nubank)-এর সাথে বিশাল অংকের নামস্বত্ব চুক্তি করেছে মায়ামি। এই চুক্তির অধীনে স্টেডিয়ামের নাম রাখা হয়েছে ‘ন্যু স্টেডিয়াম’ এবং জার্সির পেছনেও থাকছে তাদের লোগো। এছাড়া স্টেডিয়ামে থাকছে ৭৭ জন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন প্রিমিয়াম লাউঞ্জ এবং একটি বিশাল কমিউনিটি সেন্টার 'ন্যু প্লাজা'।
পানেনকা পেনাল্টি শট: মেসি-রোনালদো থেকে রোনান সুলিভানের দুঃসাহস