ডিএফপিতে নির্মাতাদের ওপর হামলা

সংস্কৃতিকর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের তীব্র নিন্দা ও বিচার দাবি

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম

চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে (ডিএফপি) তথ্যচিত্র নির্মাতাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে 'কালচার অ্যান্ড ফিল্ম কালেক্টিভ'। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে এ সংবাদ সম্মেলন হয়। আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্মাতারা গত ৩০ মার্চের ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং জড়িত কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমানসহ বহিরাগত হামলাকারীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। 

গত ৩০ মার্চ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) কার্যালয়ে বকেয়া পাওনা আদায়ের দাবিতে গিয়ে চলচ্চিত্র কর্মীরা যে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলা শিকার হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। কমিটির নেতৃবৃন্দ মনে করেন, একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে নাগরিকদের ওপর এ ধরনের হামলা শুধুমাত্র সাধারণ অপরাধ নয়, বরং এটি সংস্কৃতি কর্মীদের সৃজনশীল তৎপরতার ওপর হুমকির শামিল। 

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ডিএফপি কার্যালয়ে চিত্রগ্রাহক মশিউর রহমানের কমিশন বাণিজ্যের প্রতিবাদ করায় বহিরাগত সন্ত্রাসীদের ডেকে এনে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা আবদুর রহমানসহ অন্যদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। গত দেড় বছরে এরকম অসংখ্য হামলা দমন পীড়ন ত্রাস সৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে। মাজার ভাঙার সঙ্গে, বাউল-ফকির, কবি-লেখক, সঙ্গীতশিল্পী, থিয়েটার কর্মী ও সংবাদকর্মীসহ নানা ধারার সংস্কৃতি কর্মীদের ওপর অসংখ্য হামলার ঘটনা ঘটেছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে নাটকের প্রদর্শনী ও চলচ্চিত্রের শ্যুটিং। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেবার পরও  নানা ধারার সংস্কৃতি কর্মীদের জীবিকা ও সামাজিক নিরাপত্তা এখনও চরম হুমকির মুখে। এটি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সামগ্রিক ব্যর্থতার একটি প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠার আগেই নির্বাচিত সরকারের উচিত এই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। 

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির দাবিসমূহ:

১. হামলাকারীদের বিচার: ডিএফপিতে চলচ্চিত্রকর্মীদের ওপর হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। হামলার উসকানিদাতা ও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করতে হবে এবং সরকারি অর্থায়নে চলচ্চিত্র নির্মাণে সকল প্রকার কমিশন বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। 

২. মুক্তচিন্তার সুরক্ষা: মাজার, বাউল ও থিয়েটারসহ সাংস্কৃতিক চর্চায় বাধা প্রদানকারী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়ে সকল সংস্কৃতিকর্মীর জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। 

৩. ক্ষতিপূরণ: ডিএফপিসহ বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী হামলায় আহতদের চিকিৎসা ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। 

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি বিশ্বাস করে, যে রাষ্ট্রে লেখক শিল্পীরা হামলার শিকার হন এবং মুক্তচিন্তার কারণে কারাবরণ করেন, সেই রাষ্ট্রকে গণতান্ত্রিক বলা যায় না। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে এবং সংস্কৃতি কর্মীদের সামাজিক ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে স্থবিরতা নেমে আসবে যার দায় দেশের সরকার কোনো ভাবেই এড়িয়ে যেতে পারে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত