আধিপত্যের লড়াইয়ে হরমুজকে হাতিয়ার করছে ইরান-চীন

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ নিরসনে সক্রিয় হয়েছে ইরান ও চীন। দুই দেশের অভিন্ন লক্ষ্য-মার্কিন ডলারের আধিপত্যের অবসান ঘটানো।

ইরান ও চীনের অভিযোগ, ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের আধিপত্য ব্যবহার করে তাদের শত্রু ও প্রতিযোগীদের ওপর প্রভাব বিস্তার ও ক্ষতি করছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মর্গান চেজের ২০২৩ সালের হিসেব অনুযায়ী, বিশ্ব তেলের বাজারে ডলারের একক আধিপত্য সবচেয়ে স্পষ্ট, যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ লেনদেন এই মুদ্রায় হয়।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়, যা ইরানের নিয়ন্ত্রণে। তেহরান ও বেইজিং এই প্রণালিকে চীনা মুদ্রা ইউয়ান শক্তিশালী করার হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন বলছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানি কর্মকর্তারা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছ থেকে ট্রানজিট ফি ইউয়ানে আদায় করছেন। লয়েডস লিস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৫ মার্চ পর্যন্ত অন্তত দুটি জাহাজ ইউয়ানে অর্থ পরিশোধ করেছে। গত সপ্তাহে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গত শনিবার জিম্বাবুয়েতে ইরান দূতাবাস জানায়, বিশ্ব তেলের বাজারে এখন ‘পেট্রোইউয়ান’ যুক্ত করার সময় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় বুধবার তেহরান জানায়, তারা দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করবে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও আইএমএফের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কেনেথ রোগফ আল জাজিরাকে বলেন, ইরান একদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে খোঁচা দিতে চায়, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে ইউয়ান ব্যবহারে আন্তরিক। চীনও নিজেদের ও ব্রিকস দেশগুলোর বাণিজ্য ইউয়ানে রূপান্তর করছে।

যুক্তরাজ্যের কিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বুলেন্ত গোকে বলেন, মার্কিন আর্থিক আধিপত্যের এই চ্যালেঞ্জের গুরুত্ব ইরান ভালো বোঝে। চীনের জন্য এটি ‘বহুমেরুভিত্তিক আর্থিক বিশ্ব’ তৈরির লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে উদীয়মান শক্তিগুলোর প্রভাবে ডলারের কেন্দ্রীয় ভূমিকা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত