নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে শাহজাহান নামে এক নৈশপ্রহরীকে হাতেনাতে ধরেছে এলাকাবাসী। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে দুর্গাপুর পৌরসভা খুঁজিউড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত শাহজাহান ওই এলাকার আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরীর চাকরি করেন। তার বিরুদ্ধে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীসহ বিভিন্ন সময় নারী ও শিশুদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও এলাকায় শাহজাহান নিয়মিত মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেলে বিদ্যালয় থেকে ফেরার পর স্থানীয় শিশুদের সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুটি খেলা করছিল। এই সময় মাদকাসক্ত অবস্থায় শিশুটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় শাহজাহান। শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে এলাকাবাসী শাহজাহানকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সেলিম মিয়া জানান, ‘শিশুর চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি শিশুটির উপর বসে মুখে চাপ দিয়ে ধরে রেখেছে শাহজাহান। এ সময় স্থানীয় আরেকজন নারী ছুটে আসলে দুজনে মিলে শাহজাহানকে সরিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করি। ভয়ে শিশুটি তখন নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল। আর কিছুক্ষণ দেরি হলে হয়তো শিশুটির বড় কোনো ক্ষতি হয়ে যেত।’
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা জানান, একটি বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী হয়েও শাহজাহান নিয়মিত মাদকাসক্ত থাকে। এর আগেও তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ থাকলেও কেউ ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
আর ভুক্তভোগী শিশুর নানী জানান, শিশুটির বাবা-মা চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকেন। তাই শিশুটি তার কাছেই থাকে। আজ বিদ্যালয় থেকে আসার পর খাওয়া-দাওয়া করে সবেমাত্র বাসা থেকে বের হয়েছিল। এর মধ্যেই শাহজাহান তাকে তুলে নিয়ে অনৈতিক কাজের চেষ্টা করে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমার নাতনির মুখে চাপ দিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করে অপকর্মের চেষ্টা করেছে সে। তার শরীরে ও মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কেউ দেখতে না পেলে হয়তো আমার নাতনিকে মেরেই ফেলত শাহজাহান।’
এ ব্যাপারে দুর্গাপুর থানার ওসি মো. কামরুল হাসান জানান, ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া ও তদন্ত চলছে।
ইরানে ধরা খেলো ইসরায়েলি পাইলট!