হাঙ্গেরিতে দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পার্লামেন্ট নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করেছেন ভিক্টর অরবান। এর ফলে ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো দেশটিতে সরকার পরিবর্তন হতে যাচ্ছে।
ভিক্টর একইসঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। আংশিক সরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, পিটার মাগিয়ার নেতৃত্বাধীন তিসজা পার্টি বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে।
হাঙ্গেরির সময় রবিবার (১২ এপ্রিল) সামাজিক মাধ্যমে মাগিয়ার জানান, প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান আমাদের বিজয়ের জন্য ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তখন পর্যন্ত গণনা করা ভোটের ফল অনুযায়ী, তিসজা পার্টি পেয়েছে ৫২.৪৯ শতাংশ ভোট এবং অরবানের ফিদেস পার্টি পেয়েছে ৩৮.৮৩ শতাংশ। তথ্য আল-জাজিরার।
অন্যদিকে অরবান তার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, আমি বিজয়ী দলকে অভিনন্দন জানিয়েছি। ফলাফলটি বেদনাদায়ক হলেও পরিষ্কার। সরকার গঠনের দায়িত্ব আমাদের দেয়া হয়নি। এখন আমরা বিরোধী দল হিসেবে দেশের সেবা করে যাব।
আংশিক ফলাফলে দেখা গেছে, হাঙ্গেরির ১০৬টি নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ৯৫টিতেই এগিয়ে রয়েছে তিসজা পার্টি। ১৯৯ আসনের পার্লামেন্টে দলটি ১৩০টির বেশি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতীয় নির্বাচন দপ্তর জানায়, ভোটগ্রহণে অংশগ্রহণের হার ছিল ৭৭ শতাংশের বেশি, যা দেশটির পোস্ট-কমিউনিস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
অরবানের এই পরাজয় শুধু হাঙ্গেরিতেই নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে হাঙ্গেরির টানাপোড়েন কমতে পারে এবং ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য আটকে থাকা প্রায় ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ অনুমোদনের পথ খুলে যেতে পারে।
অরবানের বিদায়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে পশ্চিমা ডানপন্থী রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
নির্বাচনের আগে অরবান এই ভোটকে ‘যুদ্ধ ও শান্তির মধ্যে নির্বাচন’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তার সরকারের পক্ষ থেকে প্রচারণায় বলা হয়, মাগিয়ার ক্ষমতায় এলে হাঙ্গেরি ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স চলতি সপ্তাহে হাঙ্গেরি সফর করেন এবং অরবানের সমর্থনে সমাবেশে অংশ নেন। এ সময় তিনি ব্রাসেলসের ‘আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ’-এর সমালোচনা করেন। ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, অরবানের দল নির্বাচনে জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক শক্তি’ দিয়ে হাঙ্গেরিকে সাহায্য করা হবে।
