শান্তির আশা শেষ! আবারও যুদ্ধের কালো মেঘ?

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা কোনো সুরাহা ছাড়াই ভেঙে গেছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে টানা ২০ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের নির্দেশ দিয়ে উত্তেজনাকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বৈঠক শেষে তিনি গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেন, দুই দেশের মধ্যকার মতপার্থক্য এতটাই গভীর যে আপাতত তা মেটানো সম্ভব হয়নি। কোনো প্রকার যুদ্ধবিরতি বা ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ছাড়াই দুই দেশের প্রতিনিধিরা পাকিস্তান ত্যাগ করেছেন। এর ফলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শান্তির আশা অনেকটা ফিকে হয়ে গেছে।

আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরপরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি অবিলম্বে হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের নির্দেশ দিয়ে ঘোষণা করেছেন যে, কোনো জাহাজ ইরানকে শুল্ক প্রদান করলে তা আটকে দেওয়া হবে। মূলত ইরানকে তেলের আয় থেকে বঞ্চিত করাই এই অবরোধের মূল লক্ষ্য। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি ইরান আমাদের বা শান্তিপূর্ণ কোনো জাহাজে হামলা চালায়, তবে তাদের সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হবে।’

আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তেহরানের বাসিন্দা মাহসা জানান, দীর্ঘ ৪৫ দিনের উৎকণ্ঠা শেষে তারা শান্তির আশা করেছিলেন, যা এখন ধূলিসাৎ। অন্যদিকে তেল আবিবের স্কুলশিক্ষক লরা কাউফম্যানের মতে, শুরু থেকেই এই আলোচনা নিয়ে সংশয় ছিল কারণ দুই পক্ষ সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুতে অবস্থান করছে। এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ইসরায়েলের মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধকে 'সফল' মনে করছেন।

সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া তেল পাইপলাইনসহ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলো পুনরায় সচল করতে সক্ষম হয়েছে। তবে নতুন করে নৌ অবরোধের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এদিকে লেবাননে পরিস্থিতি আরও নাজুক। সেখানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগেই ইসরায়েলি হামলা জোরদার হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনির্দিষ্ট ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পরবর্তী কয়েক দিন এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত সংকটময় হতে চলেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত