জ্বালানি সংকটের প্রভাব এবার সরাসরি আঘাত হেনেছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র শ্রীমঙ্গলে। ‘চায়ের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলটি সাধারণত সারা বছরই পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর থাকে, বিশেষ করে ঈদ পরবর্তী সময় ও ছুটির মৌসুমে এখানে থাকে উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে এবার সেই পরিচিত দৃশ্য যেন উধাও হয়ে গেছে। কোলাহলপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রটি এখন অনেকটাই নীরব।
শ্রীমঙ্গলের রাধানগর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যেখানে আগে ছুটির দিনে পর্যটকদের ভিড়ে মুখর থাকত পুরো এলাকা, এখন সেখানে বিরাজ করছে এক ধরনের নিস্তব্ধতা। অধিকাংশ হোটেল ও রিসোর্টে কক্ষ ফাঁকা পড়ে আছে। আগে যেখানে আগাম বুকিং ছাড়া রুম পাওয়া যেত না, এখন সেখানে পর্যটকের অভাব প্রকট।
প্যারাগন হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ সৈয়দ নাসিম। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, “আগে আমাদের প্রায় ৮০ শতাংশ রুম বুকিং থাকত, কিন্তু বর্তমানে তা নেমে এসেছে ২৫ শতাংশে। এমনকি কিছু রুমের ভাড়া কমিয়ে দেওয়ার পরও তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। বিগত বছরগুলোতে পহেলা বৈশাখের সময় কোনো রুম ফাঁকা থাকত না, কিন্তু এবার সেই চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।”
একই অবস্থা স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোরও। পর্যটক নির্ভর এই ব্যবসাগুলো এখন লোকসানের মুখে পড়ছে। রাধানগর এলাকার চামুং রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক দিলীপ পাশি। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, “জ্বালানি সমস্যার কারণে এখন প্রায় পর্যটক শূন্য অবস্থা। আমাদের ব্যবসা সম্পূর্ণ পর্যটক নির্ভর, পর্যটক না থাকলে লোকসান গুনতেই হবে। এর পাশাপাশি বেড়েছে লোডশেডিংয়ের মাত্রা, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হলে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু জেনারেটর চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় তেল সংগ্রহ করাও এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পাম্পে বোতলে করে তেল বিক্রি বন্ধ থাকায় বিকল্প ব্যবস্থাও সীমিত, এর ফলে পর্যটকদের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শ্রীমঙ্গলে আসা অধিকাংশ পর্যটক পরিবার নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে ভ্রমণ করেন। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে সেই ভ্রমণ এখন অনেকটাই কমে গেছে। রাধানগর ট্যুরিজম এন্ট্রারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি তাপস দাশ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, “শ্রীমঙ্গলে বেশিরভাগ পর্যটকই ব্যক্তিগত গাড়িতে আসেন। জ্বালানি সংকটের কারণে তারা আসতে পারছেন না। সাধারণত ছুটির দিনে পর্যটকের চাপ বেশি থাকে, কিন্তু ঈদের পর থেকে তুলনামূলকভাবে পর্যটক অনেক কম। সার্বিকভাবে শ্রীমঙ্গলের পর্যটনে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে।”
এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সভাপতি সেলিম আহমেদ। তিনি বলেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, “জ্বালানি সংকটের কারণে পর্যটন খাত প্রায় পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। বিগত সময়ে ঈদে এবং এর পরবর্তী সময়ে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ত কিন্তু এই বছর সেই প্রবণতা নেই। পহেলা বৈশাখের ছুটির সময়েও পর্যাপ্ত বুকিং নেই। অধিকাংশ রিসোর্টে কক্ষ ফাঁকা পড়ে আছে, যা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট চলতে থাকলে অনেকের জন্য ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”
বৈশাখী সাজে স্নিগ্ধতা ছড়াচ্ছেন মিম