সৌদি প্রো লিগে শিরোপা জয়ের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল আল-নাসর। বুধবার রাতে এক টানটান উত্তেজনার ম্যাচে আল-ইত্তিফাককে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল। ম্যাচের প্রথমার্ধে কিংসলে কোমানের করা একমাত্র গোলটিই শেষ পর্যন্ত দুই দলের মধ্যে ব্যবধান গড়ে দেয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আল-নাসর। বিশেষ করে অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বেশ কয়েকবার গোল করার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। একবার দূরপাল্লার শটে গোলরক্ষক মারেক রোডাককে পরীক্ষায় ফেলেন তিনি, আরেকবার সাদিও মানের পাস থেকে বল পেয়ে তার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসলে হতাশ হতে হয় গ্যালারি ভর্তি দর্শকদের।
তবে ম্যাচের ৩০ মিনিটের মাথায় ডেডলক ভাঙেন কিংসলে কোমান। বক্সের ভেতর বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে আল-নাসরকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই ফরাসি তারকা। মধ্যমাঠ ও আক্রমণের মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করছিলেন জোয়াও ফেলিক্স, যার গতি ও পাসিং ইত্তিফাকের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখেছিল।
অন্যদিকে, আল-ইত্তিফাকও সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেছিল। মুসা ডেম্বেলে এবং জর্জিনিও ওয়াইনালডাম কয়েকবার ভীতি ছড়ালেও আল-নাসরের রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হন।
বিরতির পর গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে আল-ইত্তিফাক। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা নিজেদের হাতে নিয়ে তারা আল-নাসরের গোলরক্ষক বেন্তোকে বেশ কয়েকবার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে। মুসা ডেম্বেলের একটি জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন বেন্তো। কিছুক্ষণ পর ওয়াইনালডামের একটি হেডও জাল খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়।
উল্টো দিকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল আল-নাসরও। রোনালদোর কয়েকটি শট রক্ষণভাগে বাধা পায় এবং আয়মান ইয়াহইয়ার দূরপাল্লার শট রুখে দেন ইত্তিফাক গোলরক্ষক রোডাক। ম্যাচের শেষ দিকে আব্দুল্লাহ আল-আমরির একটি হেড পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।
খেলার শেষ দিকে রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেন আল-নাসর কোচ। দলের লিড ধরে রাখতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। ঠিক এই সময়েই উত্তেজনার পারদ চরমে পৌঁছায়। ইনজুরি টাইমে আল-ইত্তিফাকের জ্যাক হেনড্রি হিংস্র আচরণের জন্য সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ম্যাচে ফেরার সব আশা শেষ হয়ে যায় সফরকারীদের।
শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আল-নাসর। এই জয়ের ফলে সৌদি প্রো লিগের শিরোপা দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল রিয়াদের ক্লাবটি। ইত্তিফাকের লড়াকু মানসিকতা প্রশংসিত হলেও পয়েন্ট ভাগাভাগি করার মতো ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ের অভাব তাদের ডুবিয়েছে।