ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় দুইজন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় পুলিশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে।
অভিযোগ উঠেছে, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষ ভুক্তভোগী পরিবারের পুরুষ সদস্যদের বাড়িতে ঢুকতে দিচ্ছে না। বাড়িতে এলেই প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ফলে আত্মরক্ষায় পুরুষ সদস্যরা বাড়িতে না থাকায় নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে গৃহবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। এমনকি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যেতে বাধা দেওয়া, চলাচলের পথে নারী সদস্যদের উত্যক্ত ও হেনস্তার অভিযোগও উঠেছে।
ঘটনাটি উপজেলার তারুন্দিয়া ইউনিয়নের ছোট রাঘবপুর গ্রামে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে ভুক্তভোগী নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীরা এসব অভিযোগ করেন। এর আগে গত ২৪ এপ্রিল প্রতিপক্ষের বাড়ির আঙিনায় থাকা কচু গাছের পাতায় এক শিশুর লাঠি দিয়ে আঘাত করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে আবুল মুনসুর (৪২) ও বিউটি আক্তার (৪৫) গুরুতর আহত হন।
পরে আহত মুনসুরের ছোট ভাই মো. মঞ্জুরুল হক (৩৯) বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৫–৭ জন জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামি ফারুক মিয়া (২৮) ও রফিকুল ইসলামসহ (৪১) কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর জেরে বাদী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি ও গৃহবন্দি করে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আহত আবুল মুনসুরের স্ত্রী শেলিনা বেগম বলেন, ‘আমার দুই মেয়ে তানজিলা (১৭) ও মিম (১৩) স্থানীয় তুফফাতুল জান্নাত মহিলা মাদরাসায় পড়ালেখা করে। ছোট ছেলে তামিম (৭) মাদরাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। কিন্তু এখন তারা কেউ মাদরাসায় যেতে পারছে না। পথে তাদের উত্যক্ত করা হচ্ছে এবং অশালীন কথা বলা হচ্ছে। আমাদের পরিবারের পুরুষ সদস্যরা হুমকির কারণে বাড়িতে আসতে পারছেন না। আমরা এর বিচার চাই।’
এসএডি কারিগরি ও বাণিজ্যিক কলেজ থেকে এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থী মাসুমা আক্তার বলেন, ‘আমরা বাইরে বের হলেই বখাটেরা অশ্লীল কথা বলে এবং মারধরের হুমকি দেয়। এতে আমাদের পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমাদের বাবা-চাচারাও বাড়িতে ঢুকতে পারছেন না।’
মামলার বাদী মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘আমার বড় ভাই ও চাচিকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি। এতে প্রতিপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের খুঁজছে এবং বাড়িতে ঢুকলেই মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। প্রাণের ভয়ে আমরা বাড়ি ছাড়া। একই সঙ্গে তারা আমাদের পরিবারের নারী-শিশুদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিপক্ষের ফয়জুল হক (৫৩) বলেন, ‘তাদের বাড়িতে আসতে আমরা বাধা দিইনি। তারা নিজেরাই আসছে না। আমরা কাউকে হুমকি দিইনি। এসব অভিযোগ সাজানো।’
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল আজম বলেন, ‘মারামারির ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নতুন করে কোনো অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এনসিপিতে যোগ দিলেন ইসহাক-রনি-কাফি-ফ্লোরা